Advertisement
E-Paper

‘স্ট্রেস হরমোন’ কর্টিসল কমবে ছোট্ট কসরতেই? ৪০ সেকেন্ড জিভ বার করলেই মিলবে ফল!

কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে আসবে ছোট্ট ব্যায়ামেই! সমাজমাধ্যমে বিদেশি চিকিৎসকের দাবি মানলেই কি উপকার মিলবে? কী বলছেন ভারতীয় চিকিৎসকেরা?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১৯:৫৯
৪০ সেকেন্ডের পন্থাতেই কমবে কর্টিসলের মাত্রা?  সমাজমাধ্যমে এমন দাবি কতটা কার্যকর?

৪০ সেকেন্ডের পন্থাতেই কমবে কর্টিসলের মাত্রা? সমাজমাধ্যমে এমন দাবি কতটা কার্যকর? ছবি:সংগৃহীত।

ঘুম-জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণ থেকে রক্তচাপ বশে রাখা, বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখা-সহ একাধিক কাজ কর্টিসল নামক হরমোনের। তবে তার মাত্রা বাড়লেই বিপত্তি। সাধারণত শারীরিক বা মানসিক চাপ বাড়লে, বাড়তে থাকে এই হরমোনের ক্ষরণ। আবার মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি।

ফলে চিকিৎসকেরা বলেন, সুস্থ থাকতে হলে কর্টিসলের মাত্রা ঠিক রাখা দরকার। কিন্তু কী ভাবে? তারই এক অভাবনীয় পন্থা বলছেন চিকিৎসক ড্যান জিনাডের। নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের এই স্নুায়ুরোগ চিকিৎসক জানাচ্ছেন, নিয়ম করে ৪০ সেকেন্ড কেউ যদি জিভ বার করে রাখেন, কমবে কর্টিসলের মাত্রা। বশে থাকবে মানসিক চাপ। তাঁর দাবি, এমন অদ্ভুত যুক্তি হাস্যকর ঠেকলেও কার্যকর। তাঁর এক রোগীর ক্ষেত্রেই এই পন্থা কাজে এসেছে। কারণ, এই ভঙ্গিমায় পেশির ব্যায়াম হয়। তার ফলেই মানসিক চাপ কমে।

কিন্ত আদতে কি এই কৌশল কার্যকর? প্রশ্ন শুনে চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলছেন, এমন অদ্ভুত প্রক্রিয়ার কথা তাঁর জানা নেই। জিভ বার করে থাকলে, কর্টিসল কমতে পারে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কথা আছে বলেও তিনি শোনেননি। একই দাবি বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালের স্নায়ুর চিকিৎসক লোকেশ বি-র। তিনিও বলছেন, এমন কোনও পন্থায় কর্টিসল কমার কথা তাঁর জানা নেই।

কর্টিসল ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলে পরিচিত হলেও, শরীরে তার একাধিক কাজ। তবে কোনও কারণে হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সুবর্ণ জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ বাড়লে কর্টিসলের ক্ষরণ বেড়ে যায়। তার ফলে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে, অর্থাৎ ইনসুলিন রক্তে ঠিকমতো কাজ না করলে শর্করা বৃদ্ধির ভয় থাকে, এমনকি বাড়তে পারে স্থূলত্বের মতো সমস্যাও।

নানা ধরনের যোগাসনের মধ্যে রয়েছে সিংহাসন। যে আসনে ব্রজাসনে বসতে হয়। জিহ্বা বার করে বিশেষ ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার পাশাপাশি একটি শব্দ করতে হয়। বলা হয়, এমন যোগাসনে দুশ্চিন্তা কমে, মুখ এবং গলার ব্যায়াম হয়। নিউ ইয়র্কের চিকিৎসক যে পন্থা বলেছেন তা পুরোপুরি সিংহাসন নয়। তবে তা খানিকটা সিংহাসনের মতোই।

চিকিৎসক লোকেশের কথায়, জিহ্বা প্রদর্শনে সরাসরি কর্টিসল না কমলেও, পেশি যদি আরাম পায়, মুখ-গলার ব্যায়াম হয়, তা হলে পরোক্ষে মানসিক চাপ কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে কর্টিসলের মাত্রাও সাময়িক ভাবে নামতে পারে।

কর্টিসল বশে রাখতে কী করণীয়

কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের বাড়তি নিঃসরণ শরীরে হ্যাপি হরমোন বলে পরিচিত ডোপামিনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসক সুবর্ণের কথায়, কর্টিসলের মাত্রা ঠিক রাখার উপায় হল পুষ্টিকর খাবার খাওয়া (বাদাম, ফল, শাকসব্জি, মাছ, লেবুজাতীয় ফল), শারীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, প্রাণায়াম এবং যোগাসনের মাধ্যমে মনকে চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করা। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য জরুরি। নিয়ম করে হাঁটাহাটি বা শরীরচর্চাতেও উদ্বেগ বশে রাখা যায়।

কাজ এবং পারিবারিক চাপ সামলে নিজেকে সময় দেওয়া, নিজের শখগুলিকে বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমেও ভাল থাকা যায়।

Cortisol Control Tips

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy