সইফ আলি খানের বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা। গত বছর জানুয়ারিতে মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকায় অভিনেতার ফ্ল্যাটে ঢুকে এই হামলার ঘটনায় হতবাক হয়ে গিয়েছিল বলিউড। ওই ঘটনায় হামলাকারীর ছুরির আঘাতে শিরদাঁড়ায় চোট পান সইফ। সম্প্রতি একটি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, সেই রাতে তিনি একা নন, ওই দুষ্কৃতীর হামলায় তাঁর ও করিনার ছোটছেলের শরীরেও আঘাত লেগেছিল। সেটা দেখেই নিজেকে ঠিক রাখতে না পেরে ঝাঁপিয়ে পড়েন হামলাকারীর উপর। দীর্ঘ ক্ষণ হাতাহাতির জেরে মারাত্মক ভাবে আহত হন সইফ। কারণ, ছুরি দিয়ে হামলাকারী ছ’বার আঘাত করে অভিনেতাকে।
আরও পড়ুন:
ঘটনার পরে গ্রেফতার হয় শরিফুল ইসলাম শেহজ়াদে বলে এক যুবক। সইফের বাড়ির পিছনের রাস্তা দিয়ে ঘরে ঢুকে স্নানঘরে লুকিয়ে ছিল সে। যে ঘরে সইফ-করিনার ছোটছেলে জেহ্ থাকে, সেই ঘরে লুকিয়ে ছিল সে। জেহ ও তাঁর ন্যানিকে আঘাত করতেই পাশের ঘর থেকে ছুটে যান সইফ। সাক্ষাৎকারে সইফ জানান, ঘরে বিছানার পাশে অচেনা এক আগন্তুককে দেখে ছোট্ট জেহ্ ভয়ে কাঁদছে। এ সব দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি সইফ। সন্তানকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন দুষ্কৃতীর উপর। সঙ্গে সঙ্গে আগন্তুক এলোপাথাড়ি ভাবে তাঁর ঘাড়ে, হাতে, পিঠে ছুরি দিয়ে কোপাতে থাকে! আঘাতের পর আঘাত সহ্য করতে করতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যান সইফ। সেই অবস্থাতেই উঠে দাঁড়িয়ে ধাক্কা দিয়ে হামলাকারীকে পাল্টা আঘাত করে দূরে সরিয়ে দেন। এই সুযোগে ন্যানি দ্রুত জেহ্কে কোলে তুলে অন্য ঘরে পালিয়ে যান। বাকি কর্মচারীরা দুষ্কৃতীকে একটি ঘরে আটক করেন। গুরুতর আহত সইফ এর পরেই হাসপাতালে ভর্তি হন।
ওই সাক্ষাৎকারে সইফ বলেন, ‘‘আমার সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি রক্তে ভিজে গিয়েছে। আমি তখন তৈমুরকে বলি, তোমাকে আমার সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে। তৈমুর তখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কী মরে যাবে? সত্যি বলতে, আমারও তেমন মনে হচ্ছিল।’’
এর পরেই অভিনেতা হঠাৎই জানান, এত সব কিছুর পরেও তিনি হামলাকারীকে ক্ষমা করতে রাজি। কারণ, এটা আর্থসামাজিক বৈষম্যের কারণে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনামাত্র। যেখানে এক দলের কাছে অনেক কিছু থাকে, আর এক দলের কাছে কিছুই থাকে না।