জোরে জোরে গান বাজবে। কানে থাকবে কেবল গানের সুর ও তাল। বুকের ভিতরে সঙ্গীতের ছন্দ অনুভব করা যাবে। কনসার্টে গেলে তো এমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই আনন্দই অজান্তে ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কানে ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার না করলে শুধু শ্রবণশক্তিই নয়, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উপরেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন? ছবি: সংগৃহীত
কানে ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করা শুধু শব্দ কমানোর জন্য নয়, এটি মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। কারণ, শ্রবণশক্তি কমে গেলে ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই শ্রবণশক্তিকে নিরাপদে রাখা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই এই দুইয়ের মধ্যে যোগসূত্রের কথা জানেন না বা ভাবতেই চান না। ফলে একটি গানের কনসার্ট শুনতে যাওয়ার মতো নিরীহ ঘটনা থেকেও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতি শুরু হয়ে যেতে পারে।
৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ হলেই কানের ভিতরের সূক্ষ্ম কোষগুলির উপর চাপ পড়ে। কনসার্টে এই মাত্রা প্রায়ই ১০০–১১০ ডেসিবেল ছুঁয়ে যায়। কনসার্ট শেষে কানে ভোঁ ভোঁ করা বা কম শোনা, এগুলিকে অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভাবেন। কিন্তু এটিই আসলে স্নায়ুর ক্ষতির প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। বার বার এমন হলে কানের হেয়ার সেল নষ্ট হয়ে যায়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হল, এই কোষগুলি এক বার নষ্ট হলে আর ঠিক হয় না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মধ্যবয়সে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে পরবর্তী কালে। শ্রবণশক্তি কমলে মস্তিষ্কে শব্দ প্রক্রিয়াকরণ কমে যায়, ফলে ধীরে ধীরে কগনিটিভ ফাংশন বা মানসিক ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে ইয়ারপ্লাগ কী ভাবে সাহায্য করতে পারে?
উচ্চমাত্রার শব্দের সংস্পর্শে এলে ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করা দরকার। কনসার্টের মতো জায়গায় এই জিনিসটির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ইয়ারপ্লাগ কানে পৌঁছোনো শব্দের মাত্রা কমিয়ে নিরাপদ সীমায় রাখে। ফলে কানের ভিতরের সংবেদনশীল কোষগুলি সুরক্ষিত থাকে এবং দীর্ঘ মেয়াদে শ্রবণশক্তি বজায় রাখা সহজ হয়। সস্তায় অনেক ধরনের ইয়ারপ্লাগ পাওয়া যায়। পাড়ার দোকান থেকে শুরু করে অনলাইন মাধ্যমেও পছন্দ মতো ইয়ারপ্লাগ কিনতে পারেন। কনসার্ট বা লাইভ শো-এ খুব জোরে গান বা স্পিকার চললে বা এমন কোনও জায়গায়, যেখানে কথা বলতে হলে চিৎকার করতে হয়, এমন সব পরিস্থিতিতে ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করাই শ্রেয়।