Advertisement
E-Paper

ইবোলার প্রকোপ বিশ্বে, প্রাণ গিয়েছে শতাধিক, ভারতে ভয় কতটা? সতর্ক থাকতে কী পরামর্শ দিলেন হু-র বিজ্ঞানী

আফ্রিকায় ইবোলার প্রকোপ বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। ইবোলার দাপাদাপি নিয়ে বিশ্ব জুড়েই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আফ্রিকা থেকে অন্যান্য দেশে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতে সে ভয় কতটা, কী ভাবে সতর্ক থাকতে হবে, তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র প্রাক্তন বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১৪:৪৫
Ebola Cases Cross 600, But India Faces No Immediate Threat, Assures scientist Soumya Swaminathan

ইবোলা কি ভারতে ছড়াতে পারে, কী বললেন হু-র প্রাক্তন বিজ্ঞানী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্যানডেমিক বা অতিমারির পাশাপাশি গোটা বিশ্ব সাক্ষী হয়েছে আর এক জটিল অসুখের— ‘ইনফোডেমিক’। গত তিন বছরে কোভিড ভাইরাসের থেকেও দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে ভুয়ো তথ্য। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। সাম্প্রতিক সময়ে ইবোলার প্রকোপ বেড়েছে আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে। আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। প্রাণ গিয়েছে একশোরও বেশি জনের। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব জুড়েই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। করোনার মতো অতিমারির পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে কি না, সে বিষয়ে মতামত দিয়েছেন বিশ্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র প্রাক্তন বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন।

২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত, গোটা অতিমারি-পর্বে হু-এর প্রধান বিজ্ঞানী পদে নিযুক্ত ছিলেন সৌম্যা। কাজ করেছেন সরাসরি হু-এর ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়াসেসের সঙ্গে। সৌম্যা জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে ইবোলার প্রকোপ উদ্বেগজনক। তবে এখনই বিষয়টি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। ভারতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ইবোলার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হু-এর সঙ্গে যৌথ ভাবে পদক্ষেপ শুরু করেছে কঙ্গো সরকার। ‘আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ ও হু যৌথ ভাবে ইবোলা মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়েছে। জানা গিয়েছে, কেনিয়াতেও ইবোলার সংক্রমণ বাড়ছে। সৌম্যা জানিয়েছেন, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলি থেকে সারা পৃথিবীতে লোকজন যাওয়া-আসা করছেন অনবরত। এই যাতায়াত কোনও ভাবেই বন্ধ করা যায় না। সেখানে অনেক ভারতীয়ও থাকেন। তাই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গবেষকের পরামর্শ, যেহেতু ইবোলা প্রতিরোধ করার উপযুক্ত টিকা বা সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসাপদ্ধতি নেই, তাই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ বা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বার করা প্রয়োজন। সংক্রমিতের সংস্পর্শে এলেই নিভৃতবাসে পাঠাতে হবে। কোনও এলাকায় যদি এক বা একাধিক জনের মধ্যে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, তা হলে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। পরীক্ষা করে দেখতে হবে, সংক্রমণ ঘটছে কি না।

ভাইরাসটির মূল বাহক এক প্রজাতির ফলখেকো বাদুড়। তারা ভাইরাসটি বহন করে, তবে নিজেরা আক্রান্ত হয় না। পরে ওই বাদুড় থেকে বিভিন্ন প্রাণীর দেহে রোগটির সংক্রমণ ঘটে। আর কোনও ভাবে কেউ আক্রান্ত প্রাণীদের মাংস খেয়ে ফেললে বা সংস্পর্শে এলেই ইবোলা ভাইরাসটি অজান্তেই ঢুকে পড়ে তাঁর শরীরে। তার পর সেই মানুষটির রক্ত বা দেহরস (যেমন হাঁচি, কাশি) থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে অন্য মানুষের দেহে। ইবোলার সংক্রমণ হলে শুরুতে জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটের সংক্রমণ হয়, ধীরে ধীরে হার্ট, লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একাধিক অঙ্গ বিকল হতে থাকে। শেষে মৃত্যু ঘটে রোগীর।

Ebola WHO

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy