স্মৃতির পাতা খালি হবে না। তার আগেই ‘দুষ্ট’ প্রোটিনকে কব্জা করে ফেলবে ‘লরমালজি’। আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এলি লিলির তৈরি নতুন ওষুধ অনুমোদন পেয়েছে এ দেশেও। ওষুধটি অ্যালঝাইমার্সের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাবে বলেই দাবি।
বয়সকালে বলে নয়, কম বয়সেও চলে যাচ্ছে স্মৃতি। তালিকাটা দিন দিন লম্বা হচ্ছে। অ্যালঝাইমার্স মানেই যে কেবল ভুলে যাওয়ার রোগ, তা নয়। এতে রোগীর স্বভাব-বৈশিষ্ট্য, আচার-আচরণও বদলে যায়। এটি স্নায়ুর এমন এক জটিল অসুখ, যা এক বার থাবা বসালে নিরাময়ের আর কোনও উপায়ই থাকে না। স্মৃতির পাতা ধূসর হতে হতে হারিয়েই যায় এক সময়ে। তখন চোখের সামনে অতি আপনজনদেরও অচেনা মনে হয়। অ্যালঝাইমার্স নিয়ন্ত্রণে রাখার নানা চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে বিশ্ব জুড়েই। নিত্যনতুন ওষুধ নিয়ে আসার চেষ্টাও করছেন গবেষকেরা। এলি লিলি এর আগে আরও একটি ওষুধ তৈরি করেছিল, যার নাম ডোনানেমাব। তবে নতুন ওষুধটি এর চেয়েও বেশি কার্যকরী হবে বলে দাবি করা হয়েছে। এ দেশের ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা ওষুধটিকে অনুমোদন দিয়েছে। এর একটি ভায়ালের দাম হতে পারে ৯১৬৮৮ টাকা।
আরও পড়ুন:
ওষুধটি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল নয়, এটি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হবে রোগীকে। এই ওষুধটির এত দিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছিল। রোগীদের শরীরে প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে, রোগের তীব্রতা অনেকটাই কমেছে। রোগীদের ভুলে যাওয়ার প্রবণতাও কমেছে, এবং অনেকেই নিজে থেকে সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন। এর পরেই ওষুধটির জন্য অনুমোদন চাওয়া হয়। এ দেশের ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা ওষুধটির ব্যবহারে সম্মতি দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অ্যালঝাইমার্স রোগটিতে মস্তিষ্কে জিনের বিন্যাসে বদল আসে। এই বদলকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া এক প্রকার অসম্ভব কাজ। তাই এর চিকিৎসাপদ্ধতিও জটিল।আসলে অ্যালঝাইমার্সে মস্তিষ্কের স্নায়ুর বিন্যাসে যে বদলটি আসে, তার কারণ হল বিটা-অ্যামাইলয়েড অলিগোমার নামে এক ধরনের প্রোটিন। এই প্রোটিনটি মস্তিষ্কে অধিক মাত্রায় জমতে জমতে ‘প্লাক’ তৈরি করে। অ্যামাইলয়েড প্লাকের কারণে স্নায়ুতে জট পাকিয়ে যায়। ফলে স্নায়ু থেকে সঙ্কেত আদানপ্রদানে বাধা আসে। এতে মস্তিষ্কের কোষগুলিরও ক্ষয় হতে থাকে। তাতেই স্মৃতির পাতা ধূসর হয়ে যায়। নতুন ওষুধটির কাজ হবে এই প্রোটিনকে বাধা দেওয়া। প্রোটিন যদি জমতেই না পারে, তা হলে স্নায়ুর জটিলতাও আসবে না। রোগের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।