ওজন কমাতে হলে সবার আগে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে দেন অনেকেই। তাঁদের ধারণা কার্বোহাইড্রেট খাওয়া বন্ধ করে দিলেই শরীরে ক্যালোরির ঘাটতি হবে, আর তাতেই ঝরবে ওজন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, রোগা হওয়ার জন্য ডায়েট থেকে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বুদ্ধি করে বাছাই করলে রোগা হওয়ার ডায়েটেও নিশ্চিতভাবে কার্বোহাইড্রেট রাখা যায়।
আলু: আলুতে ক্যালোরি কম, ফাইবার বেশি, বিশেষ করে খোসা সমেত আলু বেশি স্বাস্থ্যকর। আলু খেলে পেট ভরে যায়। এ ছাড়াও আলুতে থাকে উচ্চ মাত্রায় রেজ়িস্ট্যান্স স্টার্চ আর জল। এই দুই উপাদানের কারণে বেশ অনেক ক্ষণ খিদে বোধ হয় না।
ব্লুবেরি: ব্লুবেরিতে ফাইবার এবং জল থাকে ভরপুর মাত্রায়। এতে ক্যালোরির মাত্রা অনেকটাই কম। কয়েকটি ব্রুবেরি খেয়ে নিলে বেশ খানিক ক্ষণ পেট ভরাট থাকে। এই ফলের মধ্যে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক রেখেই পেট ভর্তি করে।
ডাল: ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থাকে— এই দুই উপাদান পেট ভরাতে এবং ক্ষুধা নিবারণে সাহায্য করে। কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসাবে ভাতের তুলনায় ডাল অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে কম ক্যালোরি, বেশি ফাইবার এবং বেশি পরিমাণে প্রোটিন থাকে।
ব্রকোলি: ব্রকোলি সবুজ ক্রুসিফেরাস সব্জি হলেও, এটিকে কার্বোহাইড্রেটের একটি ভাল উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক বাটি ভাত খেয়ে পেট ভর্তি করানোর তুলনায় এক বাটি ব্রকোলি খেয়ে পেট ভরানো বেশি স্বাস্থ্যকর। ফাইবার এবং জল সমৃদ্ধ এই সব্জি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা চটজলদি বেড়ে যায় না। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি এবং কে, এবং ফোলেট, যা বিপাক এবং হজমে সহায়তা করে।
আপেল: এই ফল প্রাকৃতিক ভাবেই মিষ্টি। এতে ক্যালোরির মাত্রা কম এবং ফাইবারের মাত্রা অনেকটাই বেশি। খিদের পেটে একটা আপেল খেয়ে নিলে খিদে কমে, আর ভুলভাল খাওয়ার প্রবণতাও কমে। এতে থাকা ফাইবার রক্তের শর্করার মাত্রাকে চটজলদি বাড়িয়ে দেয় না। এর প্রতিটি কামড়ে শরীরে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন আর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যায়।