রক্তচাপের তারতম্যে এখন বেশি ভুগছেন কমবয়সিরাই। রাতে কম ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, অতিরিক্ত নেশার কবলে পড়ে রক্তচাপ ওঠানামা করছে। হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে, হাতের কাছে সব সময়েই ওষুধ মজুত করে রাখতে হয়। রক্তচাপ মাঝেমধ্যে মেপে নেওয়াও জরুরি। রক্তচাপ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া ভাল লক্ষণ নয়। এর থেকে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে।
রক্তচাপ ১৪০/৯০ ছাড়ালেই তাকে উচ্চ বলে ধরা যায়। যে কোনও সুস্থ ব্যক্তির স্বাভাবিক রক্তচাপ হওয়া উচিত ১১০-১২০/৭২-৮০। যদি কারও রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর বেশি হয়, তখন রক্তচাপ বেড়েছে বলা যায়। ধমনীর দেওয়ালে রক্ত যে চাপ দেয়, তাকেই বলা হয় রক্তচাপ। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের অন্যতম কারণই হল অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ। কারও ক্রমাগত রক্তচাপ বেশি থাকলে হার্টের পাম্প করার কাজ বেড়ে যায়, হৃদ্যন্ত্রের উপর চাপ পড়ে।
জিনগত, বংশগত কারণ, স্থূলত্ব-সহ নানা কারণে রক্তচাপ বা়ড়তে পারে। শরীরচর্চার অভাবও নেপথ্য কারণ হতে পারে। সাধারণত স্থূলত্ব থেকে কোলেস্টেরল, রক্তচাপের সমস্যা হলে চিকিৎসকেরা ওজন কমাতে বলেন, জীবনযাপনে বদল আনতে বলেন। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাঁদের রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার লক্ষণগুলি সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার।
১) বার বার মাথা যন্ত্রণা হওয়া উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে মাথার পিছনের দিকে ব্যথা হলে অবিলম্বে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২) হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তো রয়েছেই, উচ্চ রক্তচাপ প্রভাব ফেলে চোখেও। রেটিনায় যে রক্তনালিগুলি থাকে, সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উচ্চ রক্তচাপের কারণে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি’।
৩) রক্তচাপের তারতম্য হলে হার্ট ও ফুসফুস সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে।
৪) নাক দিয়ে রক্ত অনেক কারণে বেরোতে পারে। যদি দেখেন, সর্দিকাশি নেই অথবা সাইনাসের সমস্যা নেই, তা-ও মাঝেমধ্যেই নাক দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত বেরোচ্ছে, তা হলে সতর্ক হতে হবে। এটাও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
৫) উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় মাঝেমধ্যেই বুকে ব্যথা হতে পারে। বুকে ব্যথা, আচমকা চোখে অন্ধকার দেখা বা কয়েক মিনিটের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলার সমস্যাকে অনেকেই গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর নেপথ্যে থাকে রক্তচাপের সমস্যা।