ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তা জানেন সকলে। কিন্তু তা দাঁতের জন্য উপর কী রকম প্রভাব ফেলে জানেন? চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধু ধূমায়িত পদার্থ নয় তামাকজাত যে কোনও পদার্থ চিবোলেও দাঁতের ক্ষতি হয়। দাঁতের ক্ষতি করতে ওস্তাদ অত্যধিক ধূমপান। তবে শুধু সিগারেটজাতীয় জিনিসকে এ ক্ষেত্রে দোষ দেওয়া ঠিক নয়। তামাক রয়েছে এমন যে কোনও মুখশুদ্ধি খেলেও দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটানা সিগারেট খেলে দাঁতের উপরে একটি নরম স্তর তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা যাকে ‘প্লাক’ বলেন। খাবার টানতে চুম্বকের মতো কাজ করে এই ‘প্লাক’। দাঁতের মসৃণ স্তর সরিয়ে দিয়ে এটি একটি রুক্ষ আবরণ তৈরি করে। ফলে একই সঙ্গে ক্ষতি হয় মাড়ি এবং দাঁতের। ধূমপায়ীরা সতর্ক না হলে কিন্তু অল্প বয়সেই দাঁত ক্ষয়ে যেতে পারে। দাঁতের যত্ন নিতে কী কী করবেন ধূমপায়ীরা?
১) ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজলেও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে দাঁত মাজতে অনেকেই ভুলে যান। অনেকের আবার আলস্য আসে। দাঁত ভাল রাখতে হলে দু’বেলা দাঁত মাজতেই হবে। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মেনে না চললেই নয়। কেবল দাঁত মাজলেই হবে না দাঁতের সঙ্গে জিভও পরিষ্কার রাখতে হবে। জিভ অপরিষ্কার রাখলেই ক্যান্ডিডিয়াসিসের মতো ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
২) দোকানে গেলেই হরেক নামের হরেক উপকরণ দিয়ে তৈরি টুথপেস্টের ছড়াছড়ি। টিভি খুললেই মাজনের বিজ্ঞাপনগুলির বেশ রমরমা চোখে পড়ে। তবে টুথপেস্ট বাছাই করার সময়ে তাতে ফ্লুরাইড আছে কিনা যাচাই করে নিন। দাঁত পরিষ্কার রাখতে এই যৌগটির জুড়ি নেই।
৩) কেবল ব্রাশ করলেই হবে না, চেষ্টা করুন দিনে এক থেকে দু’বার কোনও অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে। এতে মুখে দুর্গন্ধ হবে না আর দাঁতের উপর জমে থাকা জীবাণুর স্তরও ধ্বংস হবে। ধূমপানে অভ্যস্ত হলে এই অভ্যাস শুরু করতেই হবে।
৪) প্রত্যেককেই নিয়ম করে বছরে দু’বার দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। ধূমপায়ীরা আরও বেশি বার গেলে ভাল। ধূমপায়ীদের দাঁতের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা সব সময়েই বাকিদের তুলনায় বেশি। দাঁত ভাল রাখতে তাই বছরে অন্তত দু’বার স্কেলিং করানো জরুরি।
৫) খাওয়াদাওয়ার পর সব সময়ে চেষ্টা করবেন যাতে জল দিয়ে কুলকুচি করে নিতে পারেন। ধূমপান করার পরেও এমনটাই করা উচিত। নইলে নিকোটিনের স্তর দাঁতের উপর জমতে সময় লাগে না।