অঙ্ক নয়। যদিও ৮০:২০ পদ্ধতির উৎপত্তি হিসাব কষার জায়গা থেকেই। এক কালে ব্যবসা বা অর্থনীতির দুনিয়ায় ৮০:২০ পদ্ধতির উৎপত্তি হয়েছিল। যার আরেক নাম প্যারেটো প্রিন্সিপাল। যার বক্তব্য, ৮০ শতাংশ সুফল আসে ২০ শতাংশ চেষ্টা থেকেই। অর্থনীতির দুনিয়ার সেই নীতির ব্যবহার ইদানীং হচ্ছে মনোবিজ্ঞানের জগতেও। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনেও এই নীতি সমান ভাবে প্রযোজ্য। কারণ, অনেক সময় খুব সামান্য জিনিসই মনকে কাঙ্খিত শান্তি দিতে পারে। ৮০ শতাংশ মানসিক শান্তি আসতেই পারে রোজের করা খুব সাধারণ ২০ শতাংশ কাজ থেকে।
মানসিক স্বাস্থ্যে ৮০:২০ নিয়মের প্রভাব?
মূলত দু’ ভাবে বিষয়টিকে দেখা যেতে পারে— এক, জীবনের ২০ শতাংশ ইতিবাচক অভ্যাস বা কাজ ৮০ শতাংশ মানসিক শান্তি দিয়ে দেয়। দুই, জীবনের ৮০ শতাংশ সময় নিয়ম মেনে চলে বাকি ২০ শতাংশ সময়ে নিজেকে একটু ছাড় দিতে হয়।
মন ভাল রাখতে কীভাবে কাজ করবে?
১. ভাল ২০ শতাংশকে চেনা
সারাদিনে যত রকম কাজ করেন, তার সবটাই কিন্তু আনন্দদায়ক নয়। কিছু কাজ ‘করতে হবে’ বলেই করা আর সেটা করতেই দিনের বেশির ভাগ (প্রায় ৮০ শতাংশ)সময় কেটে যায়। তার বাইরে কিছু কাজ করেন আনন্দ হবে বলে, মন ভাল থাকবে বলে। পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলা, নিজের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, ধ্যান করার মতো অভ্যাস মন প্রফুল্ল রাখে। তবে এতে ব্যয় করার মতো সময় হাতে থাকে কম। মেরেকেটে ২৪ ঘণ্টার ২০ শতাংশ। ৮০:২০-র নিয়ম মানলে এই ২০ শতাংশ কাজকে চিহ্নিত করে সেগুলোতে বেশি গুরুত্ব দিলে মানসিক স্বাস্থ্যের ৮০ শতাংশ উন্নতি সম্ভব। অন্তত তেমনই বলছে নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত ব্রিটিশ ডেন্টাল জার্নালের স্নায়ু বিষয়ক একটি প্রতিবেদন।
২. বিষাক্ত ২০ শতাংশ বর্জন
দিনের সবচেয়ে ভাল ২০ শতাংশ যেমন আছে। ঠিক তেমনই ২০ শতাংশ সবচেয়ে খারাপ বিষয়ও রয়েছে। এই ২০ শতাংশ জুড়ে থাকে কিছু নেতিবাচক মানুষ বা চারপাশের নেতিবাচক পরিবেশ এবং কিছু ব্যক্তিগত খারাপ অভ্যাস। ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলেছে, ওই নেতিবাচক ২০ শতাংশ দিনের সবচেয়ে বিষাক্ত ২০ শতাংশ। যা মনের ৮০ ভাগ দুশ্চিন্তার কারণ। তাই ওই ২০ শতাংশ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে।
৩. ১০০ শতাংশ কিছুই নয়
অনেকেই সব কাজে ১০০ শতাংশ নিখুঁত হতে গিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভোগেন। ৮০:২০ নিয়ম বলছে, জীবনের ৮০ শতাংশ কাজ এবং সময় রুটিন মেনে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করে কাটানো ভাল। কিন্তু পুরোপুরি তা করতে যাওয়া উচিত নয়। বাকি ২০ শতাংশ সময়ে যদি একটু ডায়েট ভাঙেন বা একটু অলস হন, তাতে অপরাধবোধের কিছু নেই। বরং ওই নমনীয় মনোভাবই মানসিক চাপ অনেকটা কমিয়ে দিতে সাহায্য করবে।
কী কী উপকার পাবেন?
১. সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দিলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।
২. প্রোডাক্টিভিটি অর্থাৎ কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এতে। কারণ, নিজের মানসিক শক্তির উৎস জানতে পারলে তার সঠিক প্রয়োগ করে নিজেকে ভাল রাখা যায়। যার প্রভাব পড়ে কাজেও।
৩. কঠোর শাসনের মধ্যে না থেকে দিনের ২০ শতাংশ সময় নিজের ইচ্ছামতো থাকলে মন অনেক হালকা থাকে।
৪. সম্পর্কও ভাল থাকে। কারণ, এই পদ্ধতিতে আপনি বুঝতে শেখেন কারা আসলে আপনার মন ভাল রাখার চাবিকাঠি। ফলে সেই সব মানুষকে গুরুত্ব বেশি দেন।
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
সারা দিনের কাজের একটি তালিকা তৈরি করুন এবং দেখুন কোন কাজগুলো প্রকৃতপক্ষেই আনন্দ দিচ্ছে। ওই আনন্দদায়ক ২০ শতাংশ কাজের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন। যে ২০ শতাংশ বিষয় মন খারাপের কারণ, সেগুলি থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার এবং সে সব বিষয়কে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নিয়ম মানুন এবং ২০ শতাংশ সময় নিজেকে ছাড় দিন।
যা মনে রাখা জরুরি
মানসিক স্বাস্থ্য অবশ্যই কোনও অঙ্ক নয়। তবে ৮০:২০-র ওই নিয়ম শেখায়, কীভাবে অল্প পরিশ্রমে বেশি শান্তি পাওয়া যায়। বিষয়টি মূলত শৃঙ্খলা আর স্বাধীনতার একরকম মনোগ্রাহী মিশ্রণ। যা বোঝায় ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মনোযোগ দিলে, অনেক বড় মানসিক সমস্যা নিজে থেকেই সমাধান হতে শুরু করবে।