লিভার নিয়েই যত চিন্তা। কী খেলে, কী করলে, লিভার সুস্থ থাকবে তাই নিয়ে মাথাব্যথার শেষ নেই স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালির। ফ্যাটি লিভার, সিরোসিস অফ লিভার, এই সব রোগের নাম আর অচেনা নয়। তবে লিভারের রোগ মানেই যে ফ্যাটি লিভার, তা কিন্তু নয়। আরও একটি রোগ তলে তলে বাসা বাঁধতে থাকে, যার নাম কোলাঞ্জাইটিস। ঘন ঘন অম্বল, বমি, মাথাব্যথা, এই সব লক্ষণ কোলাঞ্জাইটিসের কারণে হচ্ছে কি না, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।
কোলাঞ্জাইটিস রোগটির নানা ধরন আছে। মূলত এটি পিত্তথলির প্রদাহ বা সংক্রমণজনিত রোগ। ফ্যাটি লিভার বা সিরোসিসের চেয়েও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে কোলাঞ্জাইটিস। এর উপসর্গ এমন যে, সাধারণ গ্যাস-অম্বলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কোলাঞ্জাইটিসের চিকিৎসা সঠিক সময়ে না হলে তা প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে।
দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ থেকে প্রকাশিত একাধিক গবেষণাপত্রে কোলাঞ্জাইটিস রোগটি নিয়ে সচেতন করা হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পিত্তথলিতে পাথর জমা বা পিত্তনালির সংক্রমণ হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এই রোগটি। লিভার থেকে পিত্তরস পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তথলিতে এসে পৌঁছয়। পরে সেখান থেকে যায় অন্ত্রে। কোনও কারণে যদি এই প্রক্রিয়াটি বাধাপ্রাপ্ত হয় বা জীবাণু ঘটিত কারণে পিত্তনালিতে সংক্রমণ হয়, তখন মারাত্মক প্রদাহ হতে থাকে। এটিই হল কোলাঞ্জাইটিস। এর দু’টি ধরন আছে, প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলাঞ্জাইটিস এবং অ্যাকিউট কোলাঞ্জাইটিস।
আরও পড়ুন:
কাদের ঝুঁকি বেশি?
পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে যাঁদের বা অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাঁদের ভয় বেশি। যদি পিত্তরসের চলাচল বাধা পায় তা হলে সেখানে ব্যাক্টেরিয়া জমে সংক্রমণ হতে পারে।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কমে গেলে বা অটোইমিউন রোগ থাকলে কোলাঞ্জাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
অ্যালকোহলের নেশা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছলে ও অ্যালকোহলিক-ফ্যাটি লিভার থাকলেও এই রোগটি হতে পারে।
পিত্তনালিতে যদি টিউমার হয়, তা হলে পিত্তনালির পথ সঙ্কুচিত হয়ে কোলাঞ্জাইটিস হতে পারে।
ই কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের কারণেও রোগটি হতে পারে।
চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাদের রোগটি হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যদি লিভারের রোগ আগে থেকেই থাকে, তা হলে সতর্ক হতে হবে।
লক্ষণ দেখলে সতর্ক হন
কোলাঞ্জাইটিসের প্রাথমিক উপসর্গ হল কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে। তার পরে হাত, পায়ের পাতায় হলদেটে ছোপ দেখা দেবে।
জন্ডিস ধরা পড়তে পারে অথবা পিত্তথলিতে পাথর জমতে পারে।
পেটের ডান দিকের উপরের অংশে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হবে, সেই সঙ্গে অম্বল, বমি ভাব থাকবে। খাবার খেলেই বমি হয়ে যাবে।
প্রস্রাবে সমস্যা হবে, প্রস্রাবের রং খুব গাঢ় হয়ে যাবে। ত্বকে মারাত্মক চুলকানি হবে, র্যাশ বেরিয়ে যেতে পারে।
রক্তচাপ আচমকা কমে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।
কোলাঞ্জাইটিস সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে লিভারে পুঁজ জমে সেখানে সেপসিস হতে পারে। লিভার বিকল হয়ে যেতে পারে, তখন প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকবে না। লিভার সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা আর সুস্থ জীবনযাপন করা উচিত।