সকালের শুরু কেমন হচ্ছে, তার উপর সারা দিনের ছন্দ নির্ভর করে অনেকাংশে। নতুন যুগে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে নানা রকমের রুটিনের কথা শোনা যায়। এই দলে বিশেষ ভাবে সুখ্যাত প্রাক্তন সুপারমডেল মিলিন্দ সোমন এবং তাঁর স্ত্রী অঙ্কিতা কোনওয়ার। নিজেদের সকালের রুটিন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিশেষ এক প্রথার উল্লেখ করেন মিলিন্দ-পত্নী। কী সেটি, কী ভাবে সাহায্য করে তাঁকে?
সারা শরীরে টোকা মারার এই পদ্ধতিটি কী? ছবি: সংগৃহীত
এখন অনেকেই এমন কিছু সহজ অভ্যাসের সন্ধান করেন, যা দিনের শুরুতেই শরীরকে চাঙ্গা করে তুলবে এবং মানসিক চাপ কমাবে। এই প্রেক্ষিতেই আলোচনায় এসেছে অঙ্কিতার একটি বিশেষ রুটিন। বাড়ির যখন সকলে ঘুমোন, তখন অঙ্কিতা নিজের সারা শরীরে টোকা মারেন। শুনে আজব লাগছে তো? অঙ্কিতার স্বামী মিলিন্দও খানিক অবাক হয়েছেন এ কথা শুনে। তিনি বিষয়টিকে নিজেকে থাপ্পড় মারার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে মিলিন্দের মস্করাকে পাত্তা না দিয়ে অঙ্কিতা জানান, সকাল সকাল নিজের সারা শরীরে টোকা মেরে ঘুম ভাঙান অঙ্কিতা। তার পর অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হন তিনি।
আরও পড়ুন:
শুনে অদ্ভুত লাগলেও এই প্রথার একটি বিশেষ নাম রয়েছে, ‘ইমোশনাল ফ্রিডম টেকনিক’ (ইএফটি)। এই পদ্ধতিতে হাতের আঙুল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন নির্দিষ্ট জায়গায় হালকা করে টোকা মারা হয়। এর ধারণা এসেছে অ্যাকুপাংচারের মতো বিষয় থেকে, যেখানে মনে করা হয়, শরীরের ভিতরের শক্তির ভারসাম্য ঠিক থাকলে মনও অনেকটা শান্ত থাকে। এতে মুখ, মাথা, বুক বা হাতের কিছু নির্দিষ্ট বিন্দুতে ছন্দ মেনে ‘ট্যাপ’ করা হয়। এই প্রক্রিয়া মানসিক চাপ কমাতে, উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এর নেপথ্যে রয়েছে এমন এক ধারণা, যেখানে শরীরের ‘এনার্জি পয়েন্ট’গুলিকে উদ্দীপিত করা এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করা হয়। মানুষের মস্তিষ্কে ‘অ্যামিগডালা’ নামে একটি অংশ রয়েছে, যা ভয়, দুশ্চিন্তা বা অস্থিরতার সঙ্গে জড়িয়ে। এই টোকা দেওয়ার পদ্ধতিতে সেই অংশের অতিরিক্ত উত্তেজনা কিছুটা কমে যায়, ফলে শরীর ও মন ধীরে ধীরে শান্ত হতে শুরু করে।