কখনও চড়া রোদ, কখনও বৃষ্টি। বার বার রং বদলাচ্ছে আবহাওয়া। এ সময়ে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেড়ে গিয়ে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায় ঘামের মাধ্যমে। এমন আবহাওয়ায় তলে তলে শরীরে জলশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে থাকে। এ সময়ে বিশেষ ভাবে সচেতন থাকা দরকার। আর এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে চিকিৎসক শ্রীরাম নেনে তথা অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের স্বামীর পরামর্শ। কী কী নিয়ম মেনে চলবেন?
১. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তেষ্টা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে না। কারণ, শরীর যখন পিপাসার কথা জানাচ্ছে, তখন অনেকটাই জলশূন্য হয়ে গিয়েছে দেহ। জলতেষ্টা পাওয়াকে উপসর্গ হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। নেনের পরামর্শ, সাধারণত, পুরুষদের দিনে অন্তত ৩.৭৫ লিটার এবং মহিলাদের ২.৭০ লিটার জল খাওয়া উচিত এই গরমে।
কী কী নিয়ম মেনে চলবেন গরমের সময়ে? ছবি: সংগৃহীত
২. শুধু জল নয়, শরীরে লবণ ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেও নজর দিতে হবে। কারণ, ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে কেবল জল নয়, ইলেকট্রোলাইটও বেরিয়ে যায়। তাই প্রবল গরমের সময়ে ডিহাইড্রেশন রুখতে ডাবের জল, লেবুর শরবত, ঘোল বা ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয়ের উপরেও ভরসা রাখতে পারেন।
৩. সফরের সময়ে শৌচালয়ের অভাবে জলপানে ঘাটতি দেখা যায়। কিন্তু সময় বুঝে, জায়গা বুঝে অল্প অল্প করে গলা ভেজানো উচিত। আর যাঁরা ডেস্কে বসে কাজ করেন, বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে কাজ করেন, তাঁরাও অনেক সময়ে পিপাসা টের পান না। তাঁদের জন্য নেনের পরামর্শ, জলের বোতল ভরে চোখের সামনে রেখে দেওয়া উচিত, যাতে জল খাওয়ার ভুলে না যান।
৪. খাবারের ক্ষেত্রেও বদল দরকার। এই সময়ে অতিরিক্ত তেলমশলাদার, ভারী খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে দেয়। তার বদলে তরমুজ, শসা, স্ট্রবেরির মতো জলসমৃদ্ধ ফল বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক। এগুলি শুধু শরীরকে ঠান্ডা রাখে না, প্রয়োজনীয় খনিজও জোগায়।
কী কী ভাবে বুঝবেন ডিহাইড্রেশন হয়েছে?
· মুখ শুকিয়ে যাবে
· প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাবে
· ক্লান্তি গ্রাস করবে
· মাথা ঘোরাবে
· অতিরিক্ত ঘাম হবে
· বমি পাবে
আরও পড়ুন:
গরমে শরীর কী কী ভাবে সতর্কবার্তা দেয়, সেটা জানা দরকার। সময়মতো ছায়ায় বিশ্রাম না নিলে, জল পান না করলে, শরীর ঠান্ডা না রাখলে এই পরিস্থিতি প্রাণঘাতীও হতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন।