পুষ্টিতে ভরপুর সবুজ শাক। পালংশাকে থাকা আয়রন, ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ভিটামিন এ, সি, কে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হজম-প্রক্রিয়া ভাল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু তার পরও অনেকেরই পালংশাক সহ্য করতে কষ্ট হয়। কখনও পেটখারাপ, কখনও বা বদহজম। এত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও কেন এমনটা হয়? তার কারণ, পালং কাঁচা বা অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে হিতে বিপরীত হয়। কী ভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেটা এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সব্জি ব্লাঞ্চিংয়ের অর্থ কী? ছবি: সংগৃহীত
অনেকেই সরাসরি কাঁচা স্যালাড বা স্মুদি হিসেবে খান। সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যে উল্টো প্রভাব পড়তে পারে। তাই এমন কোনও বিশেষ পদ্ধতি মেনে রান্না করতে হবে, যাতে শরীর পুষ্টি পায়, পরিপাকও সহজ হয়। রোজ পালংশাক খাচ্ছেন, অথচ সঠিক নিয়মই জানেন না, তা হলে কোনও লাভ হবে না।
পালংশাক খাওয়ার স্বাস্থ্যকর উপায় কী?
পালং শাককে ব্লাঞ্চ করে খেলে সেরা ফলাফল পাওয়া যায়। তবে আগে জানতে হবে, ব্লাঞ্চিং পদ্ধতিতে রান্না করার নিয়ম। এই পদ্ধতিতে সব্জি বা ফল প্রথমে ফুটন্ত জলে কিছু ক্ষণ ভাপিয়ে নরম করে নিতে হয়। তার পর সেই জল ফেলে দিয়ে সব্জি ও ফল বরফজলে ডুবিয়ে রাখতে হয় অথবা কলের জলে ধুতে হয়। দ্বিতীয় ধাপে ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে আসার ফলে সব্জি বা ফল আর নরম হতে পারে না। রান্নার প্রক্রিয়া সেখানেই আচমকা থেমে যায়। ব্লাঞ্চিংয়ের পর একটি হালকা স্যুপ বানিয়ে পালংশাক খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার মেলে।
ব্লাঞ্চিং কেন দরকার?
পালংশাকের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক যৌগ থাকে, যাকে অক্সালেট বলা হয়। এই অক্সালেট যদি বেশি পরিমাণে থাকে, তা হলে শরীর আয়রন বা ক্যালশিয়াম ঠিক মতো শোষণ করতে পারে না। আর তাই শাক খেলে বদহজম বা গ্যাসের মতো সমস্যা হতে পারে। ব্লাঞ্চিং করলে এই অক্সালেটের মাত্রা অনেক কমে যায় এবং শরীরে পুষ্টি সহজে শোষিত হয়। এর ফলে পালংশাকে ৮০-৯০ শতাংশ পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।