রাগ মানুষের একটি স্বাভাবিক আবেগ। তবে ঘনঘন চরম মেজাজ হারানো নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল নয়। বরং বিষয়টিকে অনেকেই মানসিক চাপের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে দেখতে পারেন। কিন্তু মেজাজ হারানোর ঘটনা ঘটলে নিজেকে শান্ত রাখাও কঠিন কাজ। যদিও অসম্ভব নয়। ৫ উপায়ে মেজাজে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন। যখন মনে হবে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন, তখন মস্তিষ্ককে ‘রিসেট’ করার জন্য ৫টি উপায় মেনে দেখতে পারেন।
১. ৫-৫-৫ শ্বাসক্রিয়ার কৌশল
রাগ বা উত্তেজনার সময় হার্ট রেট বেড়ে যায়। এটি দ্রুত কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গভীর শ্বাস।
৫ সেকেন্ড ধরে নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিন।
৫ সেকেন্ড শ্বাসটি ভেতরে ধরে রাখুন।
৫ সেকেন্ড ধরে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।
এটি শরীরের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় করে আপনাকে তাৎক্ষণিক শান্ত করে।
২. ‘১০ সেকেন্ড’ কাউন্টডাউন
পুরানো পদ্ধতি মনে হলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। যখনই খুব রাগ হবে, মনে মনে ১০ থেকে ১ পর্যন্ত উল্টো করে গুনুন। ১০, ৯, ৮... এভাবে ১-এ পৌঁছাতে পৌঁছাতে মস্তিষ্কের যৌক্তিক অংশ আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং রাগের মাথায় ভুল কিছু করার প্রবণতা কমে যাবে।
৩. স্থান পরিবর্তন করুন
যদি সম্ভব হয়, যে মানুষটি বা যে পরিস্থিতির কারণে মেজাজ হারিয়েছেন, সেখান থেকে শারীরিক ভাবে সরে যান। অন্য ঘরে যাওয়া বা খোলা বাতাসে একটু হাঁটলে মস্তিষ্কের পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার উত্তেজনা শান্ত হয়।
৪. ৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং টেকনিক
যখন রাগ চিন্তা করার ক্ষমতা কেড়ে নেয়, তখন বর্তমানে ফিরতে এই পদ্ধতিটি কাজে লাাগাতে পারেন। নিজের চারপাশে খুঁজতে হবে—
৫টি জিনিস যা দেখতে পাচ্ছেন।
৪টি জিনিস যা স্পর্শ করতে পারছেন।
৩টি শব্দ যা শুনতে পাচ্ছেন।
২টি জিনিসের ঘ্রাণ যা অনুভব করতে পারছেন।
১টি ভাল কথা যা নিজেকে বলতে পারেন।
৫. জল খান
খুব মেজাজ খারাপ হলে এক গ্লাস ঠান্ডা জল ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করুন। এটি কেবল শরীরের তাপমাত্রা কমায় না, বরং জল খাওয়ার ওই সময়টুকু হুট করে কোনও কড়া কথা বলে ফেলার থেকেও আপনাকে বিরত রাখে।