বাজারে হরেক রকমের স্লিপিং মাস্ক পাওয়া যায়। অনেকে সে সব কিনে ব্যবহারও করেন। কিন্তু ঘুমনোর জন্য মাস্ক কি কোও বাড়তি সুবিধা দেয়। নাকি এটি কেবলই শৌখিন হওয়ার চেষ্টা? বিজ্ঞান বলছে, উপকারিতা আছে, ভাল ঘুমের জন্য স্লিপিং মাস্ক বা আই-মাস্ক বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
১. মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়
মস্তিষ্ক অন্ধকার পেলে মেলাটোনিন নামক একটি হরমোন নিঃসরণ করে, যা শরীরকে জানান দেয় যে এখন ঘুমানোর সময়। ঘরের সামান্য আলো বা জানলা দিয়ে আসা স্ট্রিট লাইটও এই হরমোন তৈরিতে বাধা দিতে পারে। স্লিপিং মাস্ক চোখকে সম্পূর্ণ অন্ধকার রেখে গভীর ঘুমে সাহায্য করে।
২. অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া কমাতে সাহায্য করে
যাদের সহজে ঘুম আসতে চায় না, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ জিনিস। এটি চোখের সামনে একটি 'ব্ল্যাকআউট' পরিবেশ তৈরি করে, যা মনকে শান্ত করে এবং ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে।
৩. চোখের ফোলাভাব ও শুষ্কতা কমায়
কিছু বিশেষ মাস্ক (যেমন সিল্কের মাস্ক) চোখের চারপাশের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া জেল-বেসড মাস্কগুলো ঠান্ডা করে ব্যবহার করলে চোখের নিচের ফোলাভাব বা পাফিনেস কমাতে দারুণ কাজ করে।
৪. ভ্রমণে সুবিধা
প্লেনে বা বাসে যাতায়াতের সময় চারপাশের আলো নিয়ন্ত্রণ করা কারও হাতে থাকে না। সেক্ষেত্রে আই-মাস্ক মুহূর্তেই ঘুমনোর পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারে।
কার জন্য কেমন মাস্ক কাজের?
সিল্কের মাস্ক ত্বকের জন্য খুব নরম এবং চোখের চারপাশের বলিরেখা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
সুতির মাস্কে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য আরামদায়ক।
‘ওয়েটেড ’মাস্ক তুলনায় ভারী, হালকা চাপ দেয় যা মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
‘কন্টুরড’ মাস্ক চোখের পাতায় সরাসরি চাপ লাগে না, যারা চোখের পল্লবের আকার নষ্ট করতে চান না তাদের জন্য ভাল।
আর যা মনে রাখবেন
যে মাস্কই ব্যবহার করুন না কেন, সেটি যেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। তা না হলে মাস্কে জমে থাকা ঘাম বা ব্যাকটেরিয়া থেকে চোখের সংক্রমণ বা ত্বকে ব্রন হতে পারে।