আবহাওয়া পরিবর্তনের সব রকম অসুখের সঙ্গে চিকেন পক্সের হানা দেওয়ার সময়। এ অসুখ একাধিক বার হতেই পারে। ‘ভ্যারিসেল্লা জস্টার’ নামক ভাইরাসের সংক্রমণে ঘটা এই অসুখ ছোঁয়াচে। তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীকে বেশ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। রোগীকে সবচেয়ে আগে নিভৃতবাসে রাখতে হবে। বায়ুবাহিত অসুখ হওয়ায় এই রোগকে আটকানোর তেমন কোনও উপায় থাকে না ঠিকই, তবে আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। পরিবারে শিশু ও বয়স্ক মানুষ থাকলে, রোগীকে তাঁদের কাছে যেতে দেওয়া চলবে না।
অনেক সময় র্যাশ, অ্যালার্জির সমস্যা হলেও অনেকে চিকেন পক্স ভেবে ভুল করে বসেন। কী ভাবে বুঝবেন, আদৌ পক্সে আক্রান্ত কি না।
পক্স মূলত ভাইরাস ঘটিত রোগ। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথমে সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই জ্বর হয়। কিন্তু সেই জ্বর সাধারণ, না কি তা জলবসন্তের, গুটি না বেরোনো পর্যন্ত বোঝা মুশকিল। ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার অন্তত ১০ থেকে ২০ দিন পর ধীরে ধীরে জ্বর, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে। তারও বেশ কিছু দিন পর থেকে সারা শরীরে র্যাশ বেরোতে শুরু করে। এই র্যাশগুলি সাধারণত জলযুক্ত ফোস্কার মতো হয়। জ্বরের সঙ্গে কারও কারও ক্ষেত্রে গলাব্যথা, নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিসের মতো সমস্যাও দেখা যায়। বাড়িতে কারও পক্স হলে বা আক্রান্তের সংস্পর্শে এলে তাঁর হাঁচি, কাশি, লালারস কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে যে কোনও বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, এই অসুখ কিন্তু কারও ক্ষেত্রেই পুরোপুরি সারে না। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে একে রুখে সুস্থ হওয়া যায়। তবে এই রোগ হলে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চললে সহজেই সুস্থ হতে পারবেন।
রোগীকে কখনও নোংরা বা স্যাঁতসেঁতে ঘরে থাকবেন না। বরং ঘরে যেন যথেষ্ট আলোবাতাস চলাচল করে ও পরিষ্কার হয়, সে দিকে খেয়াল রাখুন। এই সময় নিজের ইচ্ছামতো যখন তখন ওষুধ কিনে খাবেন না। শরীরে জ্বরের সঙ্গে বেদনাদায়ক ফোস্কা থাকায় প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে। ত্বকের প্রদাহ কমাতে ক্যালামাইন লোশন লাগান। কখনও সখনও রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খেতে হতে পারে। তবে যে কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। এই সময় কম তেল-মশলাদার খাওয়ার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।