Advertisement
E-Paper

রোদ থেকে ফিরে বাড়ির কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন? কী ভাবে হবে প্রাথমিক চিকিৎসা?

তাপমাত্রার পারদ আরও চড়বে। ইতিমধ্যেই কিছু জেলায় তাপপ্রবাহের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাজেই হিটস্ট্রোকের বিপদ এড়াতে কয়েকটি বিষয়ে সাবধানতা নিতেই হবে। বিশেষ করে বাইরে থেকে ফিরে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, মাথাঘোরা, বমি ভাব দেখা যায়, তা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা কী ভাবে করবেন তা জেনে রাখা ভাল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫০
Immediate First Aid, what to do if someone falls ill after Sun Exposure

হিটস্ট্রোকে অসুস্থ হয়েছেন কেউ, প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু কী ভাবে করবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বৈশাখ মাস পড়তেই তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি ছুঁই-ছুঁই। আগামী দিনে গরম আরও বাড়বে। অসহনীয় এই গরমে ঘরে-বাইরের কাজ সামলে সুস্থ থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকেই। সবচেয়ে বেশি ভয় থাকে হিটস্ট্রোক বা সানস্ট্রোকের। রোদ থেকে ফিরে যদি বাড়ির কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, শ্বাসকষ্ট, বমি বা মাথাঘোরার লক্ষণ দেখা দেয়, তা হলে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু আগে করে নিতে হবে। জেনে নেওয়া জরুরি এই সমস্যা এলে কী ভাবে সামাল দিতে হবে।

হিটস্ট্রোকের কারণে অসুস্থতা কি না বুঝবেন কী ভাবে?

জ্বরের মতো গা গরম হয়ে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ। তাই অনেকেই সাধারণ জ্বরের সঙ্গে পার্থক্য করতে পারেন না। ফলে চিকিৎসা বিভ্রাট হতে পারে।

Advertisement

মাথা ঘুরতে থাকবে, চোখে অন্ধকার দেখতে পারেন। আচমকা জ্ঞান হারাতে পারেন।

দরদর করে ঘাম হতে থাকবে, এসি ঘরে বসেও ঘাম হবে।

পেশির ব্যথা শুরু হবে, পেশির খিঁচুনিও হতে পারে।

তীব্র মাথাব্যথা হবে, মাইগ্রেন থাকলে তা আরও বেড়ে যাবে।

হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাবে, শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে।

প্রস্রাব গাঢ় রঙের হবে, বমি শুরু হতে পারে রোগীর।

দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে, চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাবে।

স্বাভাবিক ভাবে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা ৯৭.৭ থেকে ৯৯.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত থাকে। তা ১০০ ডিগ্রি পার করে গেলেই বিপাক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। আবার, মস্তিষ্কের সেরিবেলাম অংশেও সমস্যা দেখা দেয়। তার ফলে মানসিক বিভ্রান্তি, সিদ্ধান্তহীনতা, অসম্ভব দুর্বলতা অনুভব করা, মাথা ঘোরা, বমি ভাবের সমস্যা দেখা দেয়।

প্রাথমিক চিকিৎসা কী?

রোগীকে দ্রুত এসি ঘরে বা পাখার নীচে শুইয়ে দিন।

এর পরে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে হবে। সে জন্য ভিজে তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে ঘাড়, বাহুমূল, পিঠ ভাল করে মুছে দিতে হবে। ঘাড়, পিঠে আইস প্যাক দিতে পারেন। সবচেয়ে ভাল হয় স্নান করিয়ে দিতে পারলে।

রোগী যদি জ্ঞান না হারান, তা হলে নুন-চিনির শরবত বা ওআরএসে অল্প অল্প করে দিতে হবে। ডাবের জলও ভাল। তবে একবারে অনেকটা জল দেবেন না। এতে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ধীরে ধীরে ফিরবে।

আচ্ছন্ন বা অজ্ঞান অবস্থায় থাকলে ঠোঁট ফাঁক করিয়ে জল বা ওআরএস খাওয়ানো একদমই উচিত নয়। জল ফুসফুস বা শ্বাসনালিতে ঢুকে গেলে বিপদ বাড়বে।

রক্তচাপ কমে গেলে রোগীকে শুইয়ে দিয়ে তাঁর দুই পা বালিশের সাহায্যে কিছুটা উঁচুতে রাখুন। এতে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে।

রোগী যদি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ও শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে উঠে যায়, তা হলে দেরি না করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি, বা হার্টের সমস্যা যাঁদের আছে, তাঁরা এই গরমে দিনে কতটা জল খাবেন, তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Heatstroke Dehydration Summer Headache
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy