গরমে ক্লান্ত হলে তো বটেই পেটের সমস্যা বা ডায়েরিয়া হলেও দোকান থেকে কিনে ‘রেডি টু ড্রিঙ্ক’ ওআরএস খান অনেকেই। তার কারণ, প্রথমত, এটি জলে গোলার ঝঞ্ঝাট নেই। শুধু স্ট্র খুলে মুখে নিলেই হল। দ্বিতীয়ত, এই ধরনের ওআরএস অনেক ক্ষেত্রে নানা ধরনের স্বাদেও পাওয়া যায়। কমলালেবু, আপেল, আনারস, আম, লিচু, ব্ল্যাক কারেন্ট, জিরে, লেবু, মিক্সড ফ্রুট, এমনকি কোলার স্বাদেও! ফলে শরীরের আরামের পাশাপাশি সেগুলি সুস্বাদুও। তবে শিশুদের ওআরএস খাওয়ানো নিয়ে অভিভাবকদের মনে অনেক রকম প্রশ্ন তৈরি হয়।
শিশুদের কখন ওআরএস দেওয়া জরুরি?
শিশুকে যখন-তখন ওআরএস গুলে খাওয়ানো একেবারেই ঠিক নয়। চিকিৎসক অর্পণ সাহার মতে, ‘‘ছ’ মাসের উপরের শিশু যদি ডায়েরিয়ায় ভোগে বা পেটের সংক্রমণে ভোগে, সে ক্ষেত্রে ওআরএস দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া শিশুর বার বার বমি হলে, অত্যধিক জ্বর হলে কিংবা তীব্র গরমেও যদি শিশুর ঘাম না হয়, সে ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। এমন পরিস্থিতি হলে ওআরএস দেওয়া যেতেই পারে।’’
কোন ধরনের ওআরএস শিশুদের দেবেন?
বাজারে সাধারণত দু’ধরনের ওআরএস পাওয়া যায়। একটি গুঁড়ো আর একটি তরল। গুঁড়ো ওআরএস আবার দু’ ধরনের প্যাকেটে পাওয়া যায়। একটি ২০০ মিলিলিটার জলের সঙ্গে মেশাতে হয়, আর অন্যটি এক লিটার জলে মিশিয়ে খেতে হয়। দু’টোই শিশুদের জন্য নিরাপদ। শুধু প্যাকেটের গায়ে ‘হু ওআরএস’ ফর্মুলা লেখা আছে কি না, তা পরখ করে নিতে হবে। প্যাকেটবন্দি ওআরএসও শিশুদের খাওয়ানো যেতে পারে, সে ক্ষেত্রেও ‘হু ওআরএস’ ফর্মুলা লেখা দেখে নেবেন। নকল ওআরএস কেনার থেকে সাবধান থাকুন। নুন-চিনির জল ওআরএস-এর বিকল্প হতে পারে না।
শিশুরা ওআরএস না খেলে কি করবেন?
অনেক শিশুই ওআরএস খেতে চায় না, কান্নাকাটি শুরু করে। চিকিৎসক অর্পণের পরামর্শ, সে ক্ষেত্রে একবারে নয়, বারে অল্প অল্প করে ওআরএস খাওয়াতে হবে। সাধারণ ওআরএস না খেলে ফ্লেভার্ড ওআরএস দিন। এ ছাড়া ওআরএস-এর পাশাপাশি ডাবের জল, ডালের জলও খাওয়ানো যেতে পারে। স্তনদুগ্ধ পান করালেও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি অনেকটা কমে।
শিশুকে ঠিক কতটা ওআরএস খাওয়াবেন তা তার বয়স আর তার ডিহাইড্রেশনের মাত্রার উপর নির্ভর করে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছ থেকে কতটা খাওয়াবেন তা জেনে নিতে হবে।