এখন তিনি বলি ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির নায়িকা। সারা আলি খান মানেই সুন্দরী। সারা মানেই সুন্দর ছিপছিপে শরীর। কিন্তু কয়েক বছর আগেও এমনটা ছিল না। ছোট থেকেই সারা ছিলেন বেশ গোলগাল। কলেজ জীবনে পিৎজ়া, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই থাকত তাঁর রোজের মেনুতে। একে খাওয়াদাওয়ায় চরম অনিয়ম, তার উপর পলিসিস্টিক ওভারির সমস্যা— সব মিলিয়ে ৯৬ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে গিয়েছিল সারার। তবে নিয়ম মেনে ডায়েট আর শরীরচর্চা করেই মনের মতো চেহারা পেয়েছেন অভিনেত্রী। তবে টুকটাক খিদে পেলে কী খান তিনি?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন তাঁর ঝোলায় কী কী খাবার থাকে। অভিনেত্রী বলেন, ‘‘ব্যাগে সব সময় চিউইংগাম থাকে। আমার যখন তখন খিদে পেয়ে যায়, তখন চিউইংগাম ভরসা। এ ছাড়া ব্যাগে আখরোট আর কাঠবাদামও থাকে। অত্যধিক খিদে পেলে যখন চিউইংগাম চিবিয়েও কাজ হয় না, তখন এগুলি খাই।’’
তবে খিদে পেলে চিউইংগাম চিবোনোর অভ্যাস কতটা স্বাস্থ্যকর?
মুম্বইনিবাসী চিকিৎসক নিনাদ মুলের মতে, খালি পেটে চিউইংগাম চিবোনোর অভ্যাস মোটেও ভাল নয়। চিকিৎসক বলেন, ‘‘চিউইংগাম চিবোনোর ফলে পাকস্থলিতে অনেক বেশি অ্যাসিডের ক্ষরণ হয়। এই অ্যাসিড পাকস্থলীর ভিতরের স্তরকে নষ্ট করে দিতে পারে, যার থেকে আলসারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।’’ চিকিৎসকের মতে, চিউইংগাম অনবরত চিবোনোর ফলে আমরা অতিরিক্ত মাত্রায় বাতাস খেয়ে ফেলি। এর থেকে পেট ফাঁপা, গ্যাসের মতো সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া চিনি ছাড়া চিউইংগামগুলিতে থাকা সরবিটল-এর মতো কৃত্রিম মিষ্টিগুলি হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। যাঁরা অতিরিক্ত পেটের রোগে ভোগেন, তাঁদের জন্য এই অভ্যাস মোটেও ভাল নয়।
চিকিৎসকের মতে, খাবারের পর ১০-১৫ মিনিটের বেশি চিনিবিহীন চিউইংগাম চিবোনো উচিত নয়। এই সময়টুকু চোয়ালের পেশিতে বেশি চাপ না ফেলেই লালা উৎপাদনকে উদ্দীপিত করার জন্য এবং দাঁত পরিষ্কার করার জন্য যথেষ্ট। নিনাদ বলেন, “শরীরের কথা শুনুন—যদি চিউইংগাম চিবোলে হজমের সমস্যা হয়, পেটে অস্বস্তি অনুভব করেন, তবে চিউইংগাম চিবোনোর সময়কাল বা পরিমাণ আরও কমিয়ে দিতে হবে।”
খিদে পেলে চিউইংগামের বদলে কাঠবাদাম বা আখরোট খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।