Advertisement
E-Paper

কোষ্ঠকাঠিন্যও বিপজ্জনক হতে পারে, কোন উপসর্গ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে

পেট পরিষ্কারে সমস্যা হলে ঘরোয়া পথ্যেই ভরসা রাখেন সকলে। ফাইবার জাতীয় খাবার কোষ্ঠ পরিষ্কার করে। তবে সাধারণ কিছু উপসর্গ অবহেলা করলে বিপদের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের কোন লক্ষণগুলি নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪০
কোষ্ঠকাঠিন্যের কোন উপসর্গ এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়?

কোষ্ঠকাঠিন্যের কোন উপসর্গ এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়? ছবি: সংগৃহীত।

মলত্যাগের সময় কষ্ট, ঠিক ভাবে পেট পরিষ্কার হতে না চাওয়া খুব সাধারণ সমস্যা। ছোট থেক বড়— ঘরে ঘরে অনেকেই এমন সমস্যায় ভোগেন। কোষ্ঠ পরিষ্কার না হলে পেটে গ্যাস, পেট ব্যথাও খুব স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে আপাত সাধারণ বিষয়ই কখনও কখনও হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক। সাধারণ উপসর্গের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে বিপদের ঝুঁকি।

পেটে একটু আধটু ব্যথা, দুই তিন দিন কোষ্ঠ বা পেট পরিষ্কার না হওয়া এক ব্যাপার। তবে, এই সমস্যাই যদি মাত্রা ছাড়ায়, ঘরোয়া খাবার বা পথ্যে না কমে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

বেঙ্গালুরু নিবাসী পেটের রোগের চিকিৎসক গিরীশ পি বীরান্না এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, কোষ্ঠের সমস্যা যদি মাত্রা ছাড়ায়, কষ্ট না কমতে চায় তখন তা ফেলে রাখা উচিত নয়। সাধারণত দৈনন্দিন যে খাবার খাওয়া হয়, তার অপাচ্য অংশ মল হিসাবে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। মল যদি শরীর থেকে না বার হয় পেটে গ্যাস হতে পারে, শরীরে নানা রকম অসুবিধা তৈরি হবেই।

সেই সমস্ত অসুবিধার অনেকটাই সঠিক খাওয়া-দাওয়া এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের দ্বারা ঠিক করা যায়। তবে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন ফাইবার জাতীয় খাবার খেয়েও সমস্যার সমাধান হয় না। চিকিৎসকেরা বলছেন, কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হওয়া দরকার—

যাঁদের কোষ্ঠ নিয়ে তেমন সমস্যা নেই, কিন্তু আচমকাই ৩-৫ দিনের বেশি সময় পেট পরিষ্কার না হলে সতর্ক হওয়া দরকার।

মলত্যাগের সময় প্রচণ্ড যন্ত্রণা, জ্বালা হওয়া স্বাভাবিক নয়। মলের সঙ্গে রক্তে পড়লে, মল কালো হলে সতর্ক হতে হবে।

ঝুঁকি কোথায়?

সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্যকে অবহেলা করলে তা থেকে জটিল সমস্যা হতে পারে। পরিস্থিতি অস্ত্রোপচার পর্যন্ত গড়াতে পারে। শক্ত মল, দিনের পর দিন পেট পরিষ্কার না হওয়ার মতো উপসর্গ বড় সমস্যা ডেকে আনে। সময়ে সতর্ক না হলে ফেকাল ইমপ্যাকশন, (মলাশয়ে মল পাথরের মতো শক্ত হয়ে আটকে যায়) মলদ্বারে শিরা ফুলে যাওয়া, পায়ুদ্বারে ঘা, তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্তপাতের মতো একাধিক যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসক সতর্ক করছেন, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কখনও পেটে সংক্রমণ হতে পারে, এমনকী ডাইভার্টিকিউলাইটিস (বৃহদন্ত্রে থলির মতো হয়)-এর মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় কিছু উপসর্গ একেবারে অবহেলা করা উচিত নয়।

সমাধান কী ভাবে সম্ভব

কোষ্ঠকাঠিন্য দৈনন্দিন খাওয়া, হজম ক্ষমতা, জল খাওয়ার পরিমাণ এবং জীবনযপানের সঙ্গে সম্পর্কিত। রোজের খাবারে একটু বেশি করে ফাইবার থাকলে এমন সমস্যার সামাধান সম্ভব। কলা, পেঁপে, পেয়ারা, আপেলের মতো ফাইবার জাতীয় ফল কোষ্ঠ পরিষ্কারে সাহায্য করে। তালিকায় রাখা দরকার সবুজ শাকসব্জি। পর্যাপ্ত জল খাওয়াও জরুরি। জল কম খেলে মল শক্ত হয়ে যায়। জলের মাত্রা ঠিক থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে। পাশাপাশি, হালকা শরীরচর্চাও পেট পরিষ্কারে সহায়ক হতে পারে।

Constipation Risk
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy