বলিউডের দাপুটে অভিনেত্রী তো বটেই, তবে তিনি একজন মা-ও। সংসার-সন্তান সামলে আলিয়া ভট্ট যে ভাবে অভিনয় জগতে ফিরেছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে (বাফটা ২০২৬) উপস্থাপন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তা যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছে। ১৫ মার্চ ৩৩-এ পা দিলেন অভিনেত্রী। স্বামী রণবীর কপূর এবং মেয়ে রাহার সঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপন করছেন তিনি হংকংয়ে।
এক দিকে পেশাগত জীবন, অন্য দিকে, সন্তানের লালন-পালন, দুই দিক সামলে কী ভাবে এত ফিট তিনি? বিভিন্ন সময়ে সাক্ষাৎকারে তাঁর পছন্দ, কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে নানা কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তাতেই তিনি জানিয়েছিলেন, কোনও বিশেষ খাবার নয়, বরং ঘরোয়া খাবারেই আস্থা রেখেছেন, রাখেনও।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এবং সন্তান প্রসবের পরেও নানা রকম মানসিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যে কোনও মহিলাকেই। আলিয়াও ব্যতিক্রম নন। সন্তান প্রসবের পরে তিনিও ঘাবড়ে গিয়েছিলেন, মেয়ের জন্য কোনটি ভাল, কতটা ভাল, ঠিক ভাবে তাঁর দেখাশোনা করতে পারছেন কি না, তা নিয়ে। বেড়ে গিয়েছিল তাঁর ওজনও।
তবে এই পরিস্থিতিতে তিনি ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। কোনও কঠিন রুটিন নয়। বরং নিয়ম করে হাঁটাহাটি, শরীরচর্চা করেছেন তিনি। আলিয়া জানিয়েছিলেন, ডায়েট মেনে খাওয়া আর সন্তানকে স্তন্যপান করিয়েই তাঁর ওজন ঝরেছিল।
তবে কোনও দিনই কড়া ডায়েট করেন না তিনি। শুধু স্যালাড খেয়েও আলিয়ার দিন কাটে না। বরং সারা দিনে একটু ভাত-তরকারিই বড় তৃপ্তিদায়ক তাঁর কাছে। রুটিও খান, তবে গমের আটা নয়। কখনও রাগির আটার রুটি, কখনও খান জোয়ারের রুটি। নিরামিষ খাবার খেতেই বেশি পছন্দ করেন।
সন্তান জন্মের পর সদ্য মায়েদের ওজন বেড়ে যায়। তা ছাড়া, এই সময় মায়েদের জীবনেও বড় বদল আসে। ছোট্ট প্রাণকে কেন্দ্র করে তাঁর সময় এগোতে থাকে। হরমোনেরও কিছু পরিবর্তন হয়। ফলে অনেকেই এই সময় অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আলিয়ার জীবনেও এই বদল প্রভাব ফেলেছিল। প্রতি দিনই সন্তান পালন করতে গিয়ে নতুন কিছু শিখেছেন। মা হিসাবে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারছিলেন কি না, তা নিয়ে ধন্দেও পড়েছিলেন। আলিয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, এই সময় তিনি থেরাপির সাহায্য নিয়েছিলেন। আবার দ্রুত ওজন কমাতে পেরেছিলেন বলে প্রশংসার বদলে তাঁকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে কম চর্চাও হয়নি। অনেকেই বলেছিলেন, কৃত্রিম ভাবে ওজন কমিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে আলিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওজন কমানোর নেপথ্যে কোনও কঠোর ডায়েট বা শরীরচর্চা ছিল না। শারীরিক বদলকে নিয়ে তিনি স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলেন। শুধু নিয়ম করে সঠিক খাওয়া আর স্তন্যপান করানোর পরেই তাঁর মেদ ঝরেছে।
আগামী দিনে ‘আলফা’, ‘ব্রহ্মাস্ত্র ২’, ‘জি লে জ়ারা’-সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে দেখা যেতে চলেছে আলিয়া ভট্টকে।