কোলের সন্তান শক্ত খাবার খেতে শুরু করলে তাকে কী খাওয়াবেন আর কী খাওয়াবেন না, তা নিয়ে অনেক সময়েই চিন্তায় পড়েন বাবা-মায়েরা। ভাত, ডাল ইত্যাদি খাওয়ানোর পাশাপাশি সব্জি সেদ্ধ করে খাওয়ান অনেকেই। শিশুদের বিকাশের জন্য গাজরও অত্যন্ত উপকারী। আর তা অল্প বয়সি শিশুকে খাওয়াতে কোনও অসুবিধাও নেই বলে জানাচ্ছেন শিশুদের পুষ্টিবিদ দিভিষা জাঢওয়ানি।
ভারতীয় সিনেমাজগতের তারকা বাবা-মায়েরা রয়েছেন মুম্বইয়ের ওই পুষ্টিবিদের অনুগামী তালিকায়। দিভিষা বলছেন, ‘‘সন্তান শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করলেই তাকে ধীরে ধীরে গাজর খাওয়ানো শুরু করে দিন। ৬ মাস বয়স থেকেই গাজর খাওয়ানো যেতে পারে। কারণ এই সব্জি শিশুদের সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি সঠিক শারীরিক বিকাশেও সাহায্য করে।’’
গাজর কেন শিশুদের জন্য উপকারী?
১. শারীরিক বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধে
গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শিশুর শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা শিশুর কোষের বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এটি শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে, ফলে তারা সহজে রোগাক্রান্ত হয় না।
২. হজমশক্তি ও কোষ্ঠকাঠিন্যে
অনেক শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগে। গাজরে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করতে সাহায্য করে।
৩. দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে
শিশুর চোখের রেটিনা ও কর্নিয়া ভাল রাখতে হলে ভিটামিন এ অপরিহার্য। নিয়মিত গাজর খেলে সেই ভিটামিন এ যায় শিশুর শরীরে। এতে চোখ সংক্রান্ত ভবিষ্যতের নানা সমস্যা দূরে রাখা যায়।
৪. কৃমির সমস্যায়
গাজরে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শিশুর পেটের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া এবং কৃমির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
৫. লিভার ও ত্বক ভাল রাখতে
শিশুর লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়া এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান শিশুর ত্বকে হওয়া নানা ধরনের সংক্রমণের সমস্য়াও দূরে রাখে।
৬. দাঁত ও মাড়ির গঠনের জন্য
গাজরে থাকা খনিজ শিশুর দাঁতের মাড়ি মজবুত করে। দাঁতের প্লাক পরিষ্কার রাখতেও কাঁচা গাজর কার্যকরী।
শিশুকে কীভাবে খাওয়াবেন?
৬ মাস বয়সে: গাজর ভালো করে সেদ্ধ করে পিউরি বা মণ্ড তৈরি করে খাওয়ানো সবচেয়ে নিরাপদ।
৮-১০ মাস বয়সে: হালকা সেদ্ধ করে নরম ও ছোট ছোট কিউব করে কেটে দিতে পারেন।
২-৩ বছরে: তরকারি, স্যুপে বা ডাল বানানোর সময় গাজরের টুকরো দিয়ে দিন অথবা কাঁচা গাজর লম্বা লম্বা টুকরো করে কেটে দিন। যাতে হাতে ধরে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে পারে।
সতর্কতা
১। শিশুকে খুব অল্প বয়সে কাঁচা গাজর খেতে দিলে গলায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২। গাজরে শিশুর অ্যালার্জি হচ্ছে কি না, তা-ও দেখে নেওয়া জরুরি। তাই নিয়মিত খাওয়ানো শুরু করার আগে অল্প খাইয়ে দেখুন, তার শরীরে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না। সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৩। শিশুকে অতিরিক্ত গাজর খাওয়ালে, ত্বক বা হাতের তালু কিছুটা হলুদাভ বা কমলাটে হয়ে যেতে পারে। তা ক্ষতিকর নয়। গাজর খাওয়া কমালেই ত্বক স্বাভাবিক হয়ে যায়।