Advertisement
E-Paper

মিষ্টি খাবেন অথচ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়বে না! সারা দিনে এমন কোনও আদর্শ সময় আছে কি?

মিষ্টি খাওয়াকে পুরো বাদ না দিয়েও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নির্ভর করছে, কখন, কী ভাবে আর কতটা খাবেন, তার উপর। বিস্তারিত জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৩
মিষ্টি খাওয়ার আদর্শ সময় কোনটি?

মিষ্টি খাওয়ার আদর্শ সময় কোনটি? ছবি: সংগৃহীত।

সারা দিনে ঘন ঘন হাতছানি দেয় মিষ্টি। ডায়াবিটিস থাক বা না থাক, আচমকা রক্তে শর্করাবৃদ্ধি অনেকের কাছেই দুশ্চিন্তার বিষয়। মিষ্টি মুখে দিলেই শুরু হয় হিসেব, রক্তে কি শর্করা বেড়ে গেল? ডায়াবেটিকদের ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সুখবর হল, মিষ্টি পুরো বাদ না দিয়েও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নির্ভর করছে, কখন, কী ভাবে আর কতটা খাবেন, তার উপর। এই তিনটি বিষয়ই আসলে রক্তে শর্করার ওঠানামা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করে। একই খাবার খেয়ে শরীরে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এটা একমাত্র সম্ভব হয় খাওয়ার সময় ও ক্রমের কারণে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক।

পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যদি প্রোটিন, ফাইবার ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর মিষ্টি খাওয়া হয়, তা হলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি তুলনামূলক ভাবে কম হয়। শুধু তা-ই নয়, শর্করা শরীরে ধীরে শোষিত হয় এবং আচমকা ইনসুলিন বৃদ্ধি পাওয়াও কমে যায়। নেপথ্যে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে বলে দাবি পুষ্টিবিদের। অনন্যার কথায়, ‘‘প্রোটিন ও চর্বির কারণে চটজলদি পেট খালি হয় না। পাকস্থলী থেকে খাবার বেরোনোর গতি শ্লথ হয়ে যায়। ফলে শর্করা একসঙ্গে রক্তে ঢুকে পড়ে না। অন্য দিকে, ফাইবার শর্করার শোষণের গতি কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ে। আলাদা করে চিনি বা মিষ্টি খাওয়ার তুলনায় অন্য পুষ্টিগুণের সঙ্গে মিশে গেলে তার গ্লাইসেমিক রেসপন্স অনেকটাই কমে যায়।’’

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে মিষ্টি খাবেন কী ভাবে?

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে মিষ্টি খাবেন কী ভাবে? ছবি: সংগৃহীত

একই সঙ্গে মিষ্টি কখন খাচ্ছেন, তা-ও জরুরি। দেহের জৈবিক ঘড়ি বিপাকক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। গবেষণা বলছে, সকালে ইনসুলিনের কার্যকারিতা তুলনামূলক বেশি থাকে। অর্থাৎ সকালে মিষ্টি খেলে শরীর শর্করাকে ভাল ভাবে শোষণ করতে পারে। কিন্তু রাতে শর্করার সহ্যক্ষমতা কমে যায়। তাই মধ্যরাতে খিদে পেলেই মিষ্টি খেয়ে নেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত বলে মত পুষ্টিবিদের। সে সময়ে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে এবং অনেক ক্ষণ ধরে উচ্চমাত্রাতেই থেকে যায়।

খাওয়ার ক্রমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনন্যা বলছেন, ‘‘প্রথমে সব্জি, তার পর প্রোটিন, তার পর শর্করা জাতীয় খাবার, এবং সব শেষে মিষ্টি, যদি এই ক্রম মেনে খাওয়া যায়, তা হলে রক্তে শর্করার বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য ভাবে কম হয়। যাঁদের ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স আছে, পলিসিস্টিক ওভারির সমস্যা রয়েছে, যাঁরা প্রি-ডায়াবেটিক, টাইপ-২ ডায়াবিটিসে ভুগছেন, সন্তানধারণের পরিকল্পনা করছেন বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাঁদের এই নিয়ম মেনে চলা উচিত।’’

যদি হঠাৎ হঠাৎ রক্তে শর্করার বৃদ্ধির এই সমস্যা ঘন ঘন হয়, তা হলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। এতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ে, গ্লাইকেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়, পেটে চর্বি জমে এবং হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। দীর্ঘ মেয়াদে এগুলি হৃদ্‌রোগ, বন্ধ্যাত্ব, ত্বকের দ্রুত বার্ধক্য-সহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তাই মিষ্টি খাওয়া বন্ধ না করেও খাওয়ার সময় ও ক্রম মেনে চললে ঝুঁকি কমতে পারে। এই সচেতন সিদ্ধান্তই শরীরকে সুস্থ রাখতে পারে। সুষম আহারের নিয়ম মেনে খেলে মিষ্টিও সুস্থ জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

(এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। ডায়াবিটিসের রোগীরা কখন মিষ্টি খাবেন, আদৌ খাবেন কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।)

Blood Sugar Spike Blood sugar control Diabetes Risk Sweet Dish
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy