Advertisement
E-Paper

খাওয়ার ভুলেই মানসিক চাপ বাড়ছে না তো? ৩টি ভুল করলেই সারা দিন মেজাজ বিগড়ে থাকতে পারে

খাওয়া নিয়ে সচেতন না হলে অজান্তেই বেড়ে যেতে পারে কর্টিসলের মাত্রা। আবার খাওয়ার কিছু ভুলেও কর্টিসলের ক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে, এমনটাই জানাচ্ছেন করিনা কপূরের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকর।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১৪:৪৩
ভুল ভাবে খাচ্ছেন বলেই কি মানসিক চাপ বাড়ছে?

ভুল ভাবে খাচ্ছেন বলেই কি মানসিক চাপ বাড়ছে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু মাত্রা বেশ কিছুটা বেড়ে গেলেই বিপদ। ঘুম, বিপাকহার নিয়ন্ত্রণের মতো জরুরি কাজে সাহায্য করে যে ‘কর্টিসল’, ক্ষেত্রবিশেষে সেই হরমোনই হয়ে দাঁড়াতে পারে বিপদের কারণ। ঘরে-বাইরে বাড়তে থাকা কাজের চাপ, উদ্বেগজনিত সমস্যা নতুন নয়। কাজের জগতে টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় প্রায় সকলকেই। শুধু কর্মক্ষেত্রই নয়, পারিবারিক জীবন, সাংসারিক জীবন, কারও কারও ক্ষেত্রে আবার শারীরিক সমস্যাও মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। কিন্তু মানসিক সমস্যা চোখে দেখা যায় না বলে তা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না অনেকে। মানসিক চাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হল শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যাওয়া।

অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কর্টিসল হরমোন আবার ‘স্ট্রেস হরমোন’ নামেও পরিচিত, যা বেশি ক্ষরিত হলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা হতাশা বাড়তে পারে। এমনিতে ঘুম থেকে উঠতে সাহায্য করা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা-সহ অনেক জরুরি কাজ রয়েছে হরমোনটির। তবে মাত্রা বেড়ে গেলেই বাড়তি মেদ জমতে পারে শরীরে, ঘুমের সমস্যা হতে পারে, উদ্বেগ বাড়তে পারে। মানসিক চাপের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মৃত্যু, দুর্ঘটনার মতো মনখারাপ করা খবর পড়া, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত শারীরচর্চা, সম্পর্কের টানাপড়েন, কথা কাটাকাটি— এমন অনেক সাধারণ বিষয়ই কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার চা, কফি, জাঙ্ক ফুড, মিষ্টি জাতীয় খাবারও কিন্তু এই হরমোনের মাত্রা বিগড়ে দিতে পারে। খাওয়া নিয়ে সচেতন না হলে অজান্তেই বেড়ে যেতে পারে কর্টিসলের মাত্রা। আবার খাওয়ার কিছু ভুলেও কর্টিসলের ক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে, এমনটাই জানাচ্ছেন করিনা কপূরের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকর।

রুজুতার মতে, খাওয়ার অনিয়মের কারণেই বেড়ে যেতে পারে মানসিক চাপ! কী কী ভুল এড়িয়ে চলবেন পরামর্শ দিলেন পুষ্টিবিদ।

১) কার্বোহাইড্রেট খাওয়া কমিয়ে দেন সঠিক নিয়ম না জেনেই

রোজের ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা কমানোর পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। তবে প্রক্রিয়াজাত আর প্যাকেটজাত খাবার যেমন চকোলেট, বার্গার, বিস্কুট, কেক, কুকিজ় ‌খাওয়া বন্ধ না করে অনেকেই রোজের ভাত, রুটি, ডাল খাওয়া বন্ধ করে দেন। রুজুতা বলেন, ‘‘গাবা নামক একটি নিউরোট্রান্সমিটার মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সুষম খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিলে গাবার পরিমাণ কমতে শুরু করে, ফলে স্ট্রেস বাড়ে।’’

২) প্রাতরাশ না করা

তাড়াহুড়োর কারণে অনেকেই প্রাতরাশ না করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পুষ্টিবিদের মতে, সকালের দিকে নানা কারণে কর্টিসলের ক্ষরণ এমনিতেই বেশি থাকে। প্রাতরাশ না করলে সেই মাত্রা আরও বেড়ে যায়, সারা দিন ধরে সেই হরমোনের প্রভাব শরীরে দেখা যায়। তাই যতই সমস্যা থাকুক না কেন সকালে না খেয়ে বাড়িতে থেকে বেরোনো যাবে না। আর এমনটা করলে ধরেই নিতে হবে সারা দিন মেজাজ বিগড়ে থাকবে।

৩) মরসুমি ফল না খাওয়া

ফল খেলেই রক্তের শর্করার মাত্রা বেড়ে যাবে ভেবে অনেকেই ডায়াবিটিস না থাকা সত্ত্বেও আম খান না। রুজুতা বলেন, ‘‘আম, কলার মতো ফলগুলি প্রিবায়োটিক সরবরাহ করে ভরপুর মাত্রায়। এই সব প্রিয়বায়োটিক পেট ভাল রাখতে আর পরিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। পেটের সঙ্গে মানসিক চাপের সম্পর্ক গভীর। পেট ভাল থাকলে মানসিক চাপও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’’

Diet Mistakes Stress Control
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy