ডিম খাওয়ার সময় অনেকেরই প্রশ্ন জাগে— শুধু সাদা অংশ খাওয়া ভাল, নাকি গোটা ডিম? বিশেষ করে যাঁরা ওজন কমাতে চান, শারীরচর্চা করেন বা বেশি প্রোটিন খাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের মধ্যে ডিমের সাদা অংশ নিয়ে আগ্রহ বেশি দেখা যায়। কিন্তু সত্যিই কি সাদা অংশ গোটা ডিমের চেয়ে বেশি উপকারী? এতে প্রোটিনই বা কতখানি থাকে?
একটি বড় ডিমের সাদা অংশে প্রায় ৩.৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে, ক্যালোরি থাকে প্রায় ১৭ থেকে ১৮। এতে কোনও ফ্যাট বা কোলেস্টেরল থাকে না। অর্থাৎ প্রোটিনের উৎস হিসাবে খুবই উপযুক্ত ডিমের সাদা অংশ। শরীরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিডই এতে পাওয়া যায়। এই কারণেই ডিমের সাদা অংশকে প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস হিসাবে ধরা হয়। এই কারণে অনেক ক্রীড়াবিদ ডিমের সাদা অংশ বেশি খান।
ডিম কী ভাবে খাওয়া উচিত? ছবি: সংগৃহীত
ডিমের কুসুমেও যে হাজারো গুণ রয়েছে, সে কথা ভুললে চলবে না। অনেকেই কুসুম এড়িয়ে চলেন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের সবচেয়ে বেশি পুষ্টি আসলে কুসুমেই থাকে। কুসুমে রয়েছে, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি ১২, কোলিন, সেলেনিয়াম, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং লুটিন ও জ়িয়াজ়্যানথিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এই উপাদানগুলি চোখ, মস্তিষ্ক এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয়। সবচেয়ে বড় কথা, ডিমের কুসুমেও প্রোটিন থাকে। তাই যদি একটি বড় ডিমের সাদা অংশে ৩.৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে, তা হলে গোটা ডিমে থাকে প্রায় ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন। তাই কেবল প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে হলে গোটা ডিম বেশি ভাল।
ডিমের কুসুম ও সাদা অংশের পার্থক্য—
· ডিমের কুসুমে ক্যালোরি বেশি, সাদা অংশে কম।
· ডিমের সাদা অংশের চেয়ে গোটা ডিমে বেশি প্রোটিন।
· কুসুমে ফ্যাট থাকে, সাদা অংশে থাকে না।
· কুসুমে থাকে কোলেস্টেরল, সাদা অংশে থাকে না।
· সাদা অংশের চেয়ে গোটা ডিমে বেশি ভিটামিন।
· খনিজের পরিমাণ সাদার তুলনায় গোটা ডিমে বেশি।
· গোটা ডিম খেলে বেশি পেট ভরে।
আরও পড়ুন:
কোনটি খাওয়া ভাল?
শুধু সাদা অংশ খেলে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু কুসুমে থাকা বহু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে হবে। অর্থাৎ প্রোটিনের দিক থেকে লাভ হলেও সামগ্রিক পুষ্টিগুণের দিক থেকে কিছু ঘাটতি থেকে যেতে পারে। ওজন হ্রাসের উদ্দেশ্য থাকলে সাদা অংশই উপযুক্ত, কারণ তাতে ফ্যাট থাকে না। কিন্তু সে ক্ষেত্রে কয়েকটি পুষ্টিগুণ শরীরে পৌঁছোবে না। তবে অনেকের ক্ষেত্রে ডিমের কুসুম নিষেধ করা হয়। যাঁদের ডায়াবিটিস, কিডনির রোগ, হার্টের রোগ, কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকে, তাঁদের কুসুম বাদ দিয়েই খেতে বলেন চিকিৎসকেরা। তা ছাড়া যাঁরা খুব কম ক্যালোরির ডায়েটে রয়েছেন, তাঁদেরও কুসুম বাদ দিয়েই খেতে বলেন পুষ্টিবিদেরা। যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের মতে, যদি কোনও বিশেষ রোগের কারণে বাধা না থাকে, তবে গোটা ডিম খাওয়াই সবচেয়ে ভাল। আর যদি অতিরিক্ত প্রোটিনের প্রয়োজন হয়, সঙ্গে ক্যালোরি কমাতে চান, তা হলে একটি গোটা ডিমের সঙ্গে ১-২টি সাদা অংশ খেতে পারেন। তা হলে পুষ্টির জোগানও থাকল, প্রোটিনের চাহিদাও মিটল, ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণও কমল।