উজ্জ্বল ত্বক, রেশমের মতো চুল, ছিপছিপে চেহারা, নজির গড়ার মতো ফিটনেস— বলিউডের স্বাস্থ্যকর যাপনের কথা উঠলে মলাইকা অরোরার নাম আসবেই। কিন্তু এই সৌন্দর্য আর সুস্থতার নেপথ্যে শুধু কঠোর পরিশ্রম বা পরিচর্যা নয়, লুকিয়ে রয়েছে বাঙালির চেনা এক সহজ অভ্যাস। আর তা হল, ভাতঘুম। যে অভ্যাসকে অনেকেই আলস্য বলে নস্যাৎ করে দেন, সেটিকেই তিনি মনে করেন শরীরের জন্য এক অমূল্য যত্ন। আর তাই মলাইকা নিজের যাপনের এক নিখুঁত ছন্দের মধ্যে সাবলীল ভাবে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন এই অভ্যাসকেও।
মলাইকা অরোরার স্বাস্থ্যকর যাপন। ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনযাত্রা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মলাইকা বললেন, ‘‘দুপুরে খাবার খাওয়ার পরে মাঝে মধ্যেই ঘুম দিই। আমার খুব পছন্দের কাজ এটা। আমি মনে করি, স্বাস্থ্যের জন্যও খুব জরুরি এটা। ত্বকের জন্য, এনার্জির জন্য, চটজলদি ক্লান্তি কাটানোর জন্য এটা খুব দরকার। কাজে থাকলেও ২০-৩০ মিনিটের জন্য চট করে ঘুমিয়ে নিই। ২ ঘণ্টার জন্য ঘুমোলে মুশকিল, তা হলে আবার রাতে ঘুম আসবে না। খুব বেশি হলে আধ ঘণ্টার জন্য পাওয়ার ন্যাপ আমার চাই-ই চাই।’’
এই স্বল্প সময়ের বিরতিই তাঁর মতে শরীরকে সতেজ করে তোলে। সারা দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে মনোযোগ বাড়াতে, শক্তিবৃদ্ধি করতে, এই অভ্যাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তা-ই নয়, ত্বকের স্বাস্থ্যেও ভাল প্রভাব পড়ে এবং শরীরকে দীর্ঘ দিন সতেজ রাখার ক্ষেত্রেও এই বিশ্রাম বিশেষ কার্যকর। তবে তাঁর এই জীবনযাপন কোনও কঠোর নিয়মে বাঁধা নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা যেমন তাঁর দিনের অংশ, তেমনই নিজের পছন্দের খাবার উপভোগ করতেও তিনি পিছপা হন না। মলাইকার মতে, সুস্থ থাকা মানে নিজেকে বঞ্চিত করা নয়, বরং নিজের শরীরের প্রয়োজনকে বোঝা এবং সেই অনুযায়ী যত্ন নেওয়া।
তবে পাওয়ার ন্যাপ আধ ঘণ্টার বেশি হয়ে গেলে শরীরে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। ওজন বৃদ্ধি, বদহজম, ক্লান্তি, মাথা ধরা, ইত্যাদি সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই খুব অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তার বেশি হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।