Advertisement
E-Paper

সোয়েটার পরলেই চুলকানি হয়? ‘কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস’-এ আক্রান্ত নন তো? কী ভাবে সাবধান হবেন

অনেকেই আছেন যাঁরা উলের জিনিস পরলেই ত্বকের সমস্যা শুরু হয়। শীত থেকে বাঁচতে সোয়েটার পরা হলেও সেই সোয়েটার থেকে শুরু হয় নতুন বিড়ম্বনা। সারা গায়ে শুরু হয় চুলকানি, র‌্যাশের সমস্যা। কেন হয় এমন সমস্যা?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৫
সোয়েটার পরলেই চুলকানি শুরু হয়?

সোয়েটার পরলেই চুলকানি শুরু হয়? ছবি: এআই।

শীত এসে পড়েছে। মরসুম বদলের সঙ্গে বদলে যায় ফ্যাশনও। শীত মানেই শীতপোশাকগুলি আবার বেরিয়ে পড়ে আলমারি থেকে। দু’টো মাস সোয়েটার, শাল নিয়ে একটু কায়দা না করলেই নয়। তবে অনেকেই আছেন যাঁরা উলের জিনিস পরলেই ত্বকের সমস্যা শুরু হয়। শীত থেকে বাঁচতে সোয়েটার পরা হলেও সেই সোয়েটার থেকে শুরু হয় নতুন বিড়ম্বনা। সারা গায়ে শুরু হয় চুলকানি, র‌্যাশের সমস্যা।

কেন হয় এমন সমস্যা?

ত্বক চিকিৎসকদের মতে, উলের পোশাক থেকে ত্বকে র‌্যাশ বেরোতে পারে। তবে সবসময়ে নয়। উলের আঁশ গায়ে ঘষা লেগে অনেক সময়েই ত্বকে অস্বস্তির সৃষ্টি করে। মূলত যাঁদের ত্বক অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিংবা যাঁদের এগজ়িমা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ত্বক চিকিৎসক সুনীল কুমার প্রভু বলেন, ‘‘এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁদের আবার উল থেকে অ্যালার্জিও হয়। উলের কৃত্রিম রং কিংবা পোশাক তৈরির রাসায়নিক থেকেও একই ভাবে ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।’’

এ ছাড়া সোয়েটার বা গরম পোশাক বাইরের ঠান্ডা থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। উলের পোশাক পরলে শরীরের সেই অংশে হাওয়া চলাচল করতে পারে না, ফলে ঘাম হয়। এমন পরিবেশেই ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাকেক বাড়বাড়ন্ত হয়। যে কারণে ত্বকে নানা রকম অস্বস্তি হতে শুরু করে। সেই থেকেও ত্বক লাল হয়ে যায়, র‌্যাশও বেরোয়। শীতে ত্বক শুকিয়ে গিয়ে সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। এই সময় কোনও রাসায়ানিক বা উল, সিন্থেটিক বা রঙের সংস্পর্শে ত্বকের উপর লালচে র‍্যাশ, জ্বালা, চুলকুনির ঝুঁকি বাড়ে। এই সমস্যার ডাক্তারি নাম ‘কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস’ বা সংস্পর্শ জনিত ত্বকের সমস্যা।

যদিও সারা বছরই এই সমস্যা নিয়ে ভোগান্তি হতে পারে, তবে শীতের শুকনো ত্বকে সমস্যা বাড়ে। এই ধরনের সমস্যায় শিশুদের ভোগন্তি বেশি হয়। তবে বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের পাশাপাশি বড়দের মধ্যেও কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের ঝুঁকি যথেষ্ট বেশি। কেবল উলের পোশাক নয়, রাসায়নিক মিশ্রিত চুলের রং, নেল পলিশ, লিপস্টিক, আলতা, সিঁদুর, ক্রিম, ত্বকের নানা রকম প্রসাধনী, লিপস্টিক, সাবান, সুগন্ধি তেল সহ যে কোনও কিছুর সংস্পর্শ কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস ডেকে আনতে পারে। এ ছাড়া হাওয়াই বা প্লাস্টিকের চটি, জাঙ্ক জুয়েলারি সহ যে কোনও কিছুর সংস্পর্শে ত্বকের ক্রনিক সমস্যা, এমনকি শ্বেতীও হতে পারে।

রোগমুক্তি কী ভাবে সম্ভব?

কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হলে অনেকেই নানান ভেষজ ক্রিম বা ওষুধ মেখে রোগ বাড়িয়ে ফেলেন। চিকিৎসকদের মতে, ভেষজ প্রসাধনীর উপাদান না জেনে তা লাগানো ঠিক নয়। কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের প্রধান চিকিৎসা হল এই— যে কারণে সমস্যা হচ্ছে, তা ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া। এই সমস্যার চিকিৎসার অঙ্গ হিসেবে প্রথমেই নিখুঁত রোগ নির্ধারণ, ঠিক কী ধরনের অ্যালার্জি, আর কী থেকে সেই অ্যালার্জি হয়েছে সেটা বোঝা। তার পর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ৭–১০ দিনের চিকিৎসাতেই রোগের বিস্তার আটকে দেওয়া যায়। কিন্তু সেলফ মেডিকেশনে সমস্যা ক্রনিক হয়ে গেলে ত্বকের উপর কিছু দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে থেকে যাওয়া যেমন ত্বক চুলকে, কালো পুরু হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করাতে হতে পারে। কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস প্রতিরোধে যে কোনও কসমেটিক কেনার আগে তার লেবেলটি ভাল করে পড়ে নিতে হবে। কোন উপাদানে অ্যালার্জি, সেটা জানা থাকলে ভাল। বেশি দামি কসমেটিক মানেই যে তার থেকে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, সে কথা মনে করার কোনও কারণ নেই।

Skin Problem Winter Allergy
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy