ব্যথাবেদনা নেই, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিশেষ করে বয়স ৪০ পেরোলে বাতের ব্যথা যেন জাঁকিয়ে বসে। একটা সময়ে মনে করা হত, বাত বুঝি বয়স্কদেরই রোগ। এখন সে ধারণা বদলেছে। চল্লিশ পেরোতেই শুরু হয়ে যায় হাঁটু, পিঠ-কোমরের যন্ত্রণা। চলতে ফিরতে কষ্ট, সিঁড়ি ভাঙতে গেলেই পায়ে মোচড় আসে।
সাধারণত ব্যথা হলে তা বেদনানাশক মলমেই মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন বেশির ভাগ মানুষ। কিন্তু বাতের ব্যথা অন্য রকম। সাধারণ মলমে বা সেঁক দিলে তাতে খুব একটা আরাম হয় না। আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাত হলে তাঁরা আরও বেশি জবুথবু হয়ে পড়েন। ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা বলছেন, অস্থিসন্ধির ব্যথা বা গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা কমতে পারে সহজ ব্যায়ামেও। শুধু নিয়ম মেনে করতে হবে।
সহজ স্ট্রেচিং
অ্যাঙ্কেল রোটেশন
চেয়ারে বসে পা সামান্য উঁচু করে পায়ের পাতা ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং বিপরীত দিকে ঘোরাতে হবে। ১০-১২ বার করে ব্যায়ামটি করতে হবে। এই ব্যায়াম গোড়ালির ব্যথায় আরাম দেয়।
হ্যান্ড স্ট্রেচ
দুই হাতের সবক’টি আঙুল একবার মুঠো করতে হবে ও তার পরেই ছেড়ে দিতে হবে। এই ভাবে ১০ বার করতে হবে। আঙুলের বাতের ব্যথার জন্য বেশ ভাল ব্যায়াম এটি।
আরও পড়ুন:
হাঁটুর এক্সটেনশন
চেয়ারে সোজা হয়ে বসে একটি পা ধীরে ধীরে সামনের দিকে সোজা করুন এবং ৫ সেকেন্ড ধরে রেখে নামিয়ে নিন। অন্য পায়েও একই ভাবে করুন। এটি হাঁটুর পেশি মজবুত করে।
যোগাসন
তাড়াসন
সোজা হয়ে দাঁড়ান। পায়ের পাতার মধ্যে দুই ইঞ্চি দূরত্ব রাখুন। শ্বাস নিন। হাত দুটোকে উপরে তুলে কাঁধের সমান সমান নিয়ে যান। এ বার আঙুল দিয়ে হাত দুটোকে জড়ান। হাতের তালু রাখুন বাইরের দিকে। এ বার শ্বাস নিতে নিতে মাথার উপর হাত দুটো নিয়ে যান। পায়ের গোড়ালিগুলো মাটি থেকে উপরে তুলুন। পায়ের পাতার উপর শরীরের ভারসাম্য রাখুন। এই অবস্থায় ৩ থেকে ১০ বার শ্বাস নিন। এ বার গোড়ালি নীচে নিয়ে আসুন। শ্বাস ছেড়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। দিনে দু’বার করলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে বাতের ব্যথা।
পশ্চিমোত্তাসন
সামনের দিকে পা ছড়িয়ে বসুন। পায়ের পাতার অভিমুখ রাখুন আপনার দিকে। শিরদাঁড়া সোজা রাখুন। এ বার শ্বাস নিন। দুটো হাত একসঙ্গে মাথার উপর সোজা করে তুলুন। এর পরে শ্বাস ছাড়ুন। এ বার আস্তে আস্তে সামনের দিকে ঝুঁকুন। হাত দুটো গোড়ালি পর্যন্ত পৌঁছলে একটির কব্জি দিয়ে আর একটি ধরে রাখুন। মাথা রাখুন হাঁটুতে। এর পর শ্বাস ছাড়ুন। খেয়াল রাখুন শিরদাঁড়া যেন সামনের দিকে প্রসারিত থাকে। শ্বাস নিন। এ বার আগের ভঙ্গিতে ফিরে আসুন। নিয়ম করে এটি করলে ব্যথা কমবে।