মৌরী খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং নিরাপদ বলেই জানেন অধিকাংশে। তবে যেকোনও কিছুর মতোই অতিরিক্ত মৌরী সেবন কিছু ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে নানা মত রয়েছে।
মৌরীর গুণাগুণ
মৌরীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন। এটি হজমশক্তি উন্নত করতে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে এবং মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে দারুণ কার্যকর।
তবে সমস্যা কোথায়?
মহিলাদের শরীরে মৌরীর প্রভাব বেশ সংবেদনশীল হতে পারে। তার কিছু কারণও রয়েছে।
১। হরমোনের ভারসাম্য: মৌরীতে ‘অ্যানেথোল’ নামের একটি উপাদান থাকে যা শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো কাজ করে। অতিরিক্ত মৌরী খেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা পিরিয়ডের চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
২। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে: গর্ভাবস্থায় বেশি মৌরী খেলে জরায়ু সঙ্কুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা প্রিম্যাচিওর লেবার বা গর্ভপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। আবার স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে এটি দুধের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত সেবন শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৩। অ্যালার্জি: কিছু মহিলার ক্ষেত্রে মৌরী খেলে ত্বকে র্যাশ বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪। রোদে অসুবিধা: অতিরিক্ত মৌরী সেবনে ত্বক সূর্যের আলোর প্রতি অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে, ফলে দ্রুত সানবার্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৫। জরায়ুর সমস্যায়: দিনে ১-২ চা চামচের বেশি মৌরী না খাওয়াই ভালো। যদি এন্ডোমেট্রিওসিস বা জরায়ুর টিউমারের মতো কোনো হরমোনজনিত সমস্যা থাকে, তবে মৌরী খাওয়ার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।