রেস্তরাঁয় বসে ইচ্ছেমতো কাবাব বিরিয়ানির অর্ডার দিলেন। কিন্তু খাওয়ার পরেই পেট আইঢাই! শরীর উচাটন। ফলে ভরসা সোডায়। শেষ পাতে ফ্রেশ লাইম সোডা খেয়ে উদগার পর্ব মিটিয়ে তবে ওঠার অবস্থা। কিন্তু এই যে ভারী খাবার খাওয়ার পরে হালকা হওয়ার জন্য সোডা খাওয়ার প্রবণতা, তা কি ঠিক। তাতে কি কোনও উপকার হয়? নাকি ক্ষতিও হতে পারে।
সাময়িক স্বস্তি না কি স্রেফ বিভ্রম?
সোডা বা কার্বোনেটেড পানীয়র মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস। এই গ্যাস যখন পাকস্থলীতে পৌঁছায়, তখন পেটের ভেতরকার চাপে থাকা বাতাস বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলেই ‘ঢেকুর’ ওঠে। তাতে মনে হয় পেট হালকা হল বা খাবার হজম হতে শুরু করল। কিন্তু সেটি একটি সাময়িক স্বস্তি মাত্র। হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে এর যোগসূত্র খুবই সামান্য।
কেন সোডা এড়িয়ে চলবেন?
১. হজমে ব্যাঘাত: পাকস্থলীতে খাবার হজম করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু অ্যাসিড ও এনজাইম থাকে। অতিরিক্ত সোডা খেলে সেই অ্যাসিডের ঘনত্ব কমে যায়, ফলে হজম প্রক্রিয়া হিতে বিপরীত হয়ে আরও মন্থর হয়ে যেতে পারে।
২. গ্যাস ও পেট ফাঁপা: সোডার বুদবুদ থেকে তৈরি হওয়া বাড়তি গ্যাস অনেক সময় শরীরের ভেতরেই থেকে যায়। এতে পেট ভার হওয়ার সমস্যা কমার বদলে আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম আছে, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
৩. অতিরিক্ত ক্যালরি ও চিনি: ফ্রেশ লাইম সোডায় চিনির পরিমাণ থাকে অনেকটাই। ভারী খাবারের ক্যালরির সঙ্গে এই বাড়তি চিনি যোগ হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং মেদ জমার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
৪. ক্যালসিয়ামের ক্ষয়: নিয়মিত এই ধরনের পানীয় খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ক্যালসিয়ামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করে।
বিকল্প কী কী হতে পারে?
জোয়ান ভেজানো জল: সামান্য নুন দিয়ে জোয়ান ভেজানো জল হজমে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
আদা চা: আদা পাকস্থলীর প্রদাহ কমাতে এবং খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে।
পুদিনার শরবত: চিনি ছাড়া পুদিনা পাতা ও লেবুর রস দিয়ে তৈরি পানীয় পেট ঠান্ডা রাখে।
ঈষদুষ্ণ জল: খাওয়ার ৩০ মিনিট পর এক গ্লাস হালকা গরম জল পানের অভ্যাস সবচেয়ে কার্যকরী।