পেটের সমস্যা এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কখনও গ্যাস, কখনও পেটফাঁপা, কখনও বা হজমের গোলমাল, কখনও বুকজ্বালা। আর এই সব সমস্যার নেপথ্যে শুধু বাইরের খাবার নয়, প্রতি দিনের ছোট ছোট খাদ্যাভ্যাসেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা। সম্প্রতি এমস প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট সৌরভ শেট্টী এমন পাঁচটি সহজ খাবারের কথা বলেছেন, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু তার জন্য ডায়েটের কিছু খাবার অদলবদল করা প্রয়োজন।
খাবারের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনা দরকার? ছবি: সংগৃহীত
কোন কোন খাবার অদলবদল করবেন?
১. সাদা পাউরুটির বদলে হোল গ্রেন সাওয়ারডো বা হালকা টক স্বাদের পাউরুটি খেতে হবে। সাদা পাউরুটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে চট করে। কিন্তু টক স্বাদের পাউরুটি বা সাওয়ারডো প্রাকৃতিক ভাবে মজানো বলে অন্ত্রের জন্য তা স্বাস্থ্যকর। অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়াকে পুষ্টির জোগান দেওয়ার জন্য এটি উপযুক্ত।
২. ফ্লেভারযুক্ত ইয়োগার্টের বদলে ঘরে পাতা টক দই খাওয়া শুরু করতে বলছেন চিকিৎসক। অন্ত্রের জন্য ফ্লেভার দেওয়া, বা চিনি দেওয়া দই বা ইয়োগার্ট আদপে অন্ত্রের জন্য ভাল নয়। হজম ও পেট সুস্থ রাখার জন্য ঘরে পাতা টক দইয়ের থেকে উপযুক্ত কিছু হতেই পারে না। তবে গ্রিক ইয়োগার্ট ও কেফিরও অন্ত্রের জন্য ভাল।
৩. হালকা কাঁচা বা কম পাকা কলায় থাকে রেজ়িস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা অন্ত্রের ভাল ব্যাক্টেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি, এটি রক্তে দ্রুত শর্করা বাড়ার ঝুঁকিও কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই একেবারে পাকা কলার বদলে হালকা সবুজ রঙের কলা খাওয়া উচিত।
৪. মিষ্টি দেওয়া সোডাজাতীয় পানীয় অন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। কৃত্রিম মিষ্টি অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তার বদলে লেবু মেশানো সোডা-জল বা সাধারণ জল ভাল বিকল্প হতে পারে।
৫. প্রক্রিয়াজাত মাংসের মধ্যে সাধারণত সংরক্ষণকারী রাসায়নিক মেশানো থাকে। এগুলি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। অন্ত্রের ভিতরের আস্তরণে প্রদাহ বাড়তে পারে এই সব খাবারের কারণে। তাই টাটকা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রান্না করে খাওয়া উচিত। বাড়িতে রান্না করা ডিম, ডাল, মাছ, মুরগি, পনির বা টোফুর মতো খাবার বেশি ভাল।
তবে দীর্ঘ দিন পেটব্যথা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা থাকলে শুধু সমাজমাধ্যমের টোটকার উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। কারণ, সব সমস্যার সমাধান এক রকম খাবার বদলে হয় না।