শিশুর মনোযোগ কম। পড়া মনে রাখতেও পারে না। এমন অভিযোগ অনেক বাবা-মায়েরই। আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মন যা চাইছে, তা-ই এসে যাচ্ছে হাতের মুঠোয়। মাথা ঘামানোর আর বিশেষ প্রয়োজন পড়ছে না। ঝটপট জটিল অঙ্ক কষে ফেলা হোক বা জরুরি কাজ মনে রাখা, যন্ত্রের উপর ভরসা যত বাড়ছে, ততই ধুলো জমছে মস্তিষ্কে। সন্তান তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও মেধাবী হোক, সব বাবা-মাই তা চান। তাই শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার পাশাপাশি তার মগজাস্ত্রেও শান দেওয়া প্রয়োজন রয়েছে। সে জন্য নিয়ম করে কিছু যোগাসন অভ্যাস করাতে হবে। রোজ সকালে সহজ কিছু আসন অভ্যাস করতে পারলেই মনঃসংযোগ বাড়বে, স্মৃতিশক্তিও উন্নত হবে।
বৃক্ষাসন
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিজের দু'টি হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে বুকের কাছে আনতে হবে। তার পর শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে ডান হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতাটি বাম ঊরুর উপর রাখতে হবে। ধীরে ধীরে মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে মাথার উপর নিয়ে যেতে হবে। ৩০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে এক পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।
আরও পড়ুন:
শশঙ্গাসন
যোগা ম্যাটের উপরে হাঁটু মুড়ে বজ্রাসনে বসতে হবে। পায়ের পাতা যেন আরামদায়ক অবস্থায় থাকে। পিঠ সোজা থাকবে। দুই হাত থাকবে হাঁটুর উপরে। শ্বাস নিতে নিতে দুই হাত কানের পাশ দিয়ে যতটা সম্ভব উপরের দিকে তুলতে হবে। ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীর ঝুঁকিয়ে হাঁটুর সামনে মাথা ঠেকাতে হবে, দুই হাত সামনে ছড়ানো থাকবে প্রণামের ভঙ্গিতে। পরে হাত নিয়ে যেতে হবে গোড়ালির পাশে। এ ভাবে ৩০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।
স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড
ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। কোমর, পিঠ থাকবে টান টান। এ বার কোমর থেকে শরীর ঝুঁকিয়ে দুই হাতের তালু দিয়ে মাটি স্পর্শ করার চেষ্টা করতে হবে। তবে হাঁটু ভাঙলে হবে না। শরীরচর্চা করার অভ্যাস না থাকলে খুব বেশি ক্ষণ এই অবস্থান ধরে রাখা যাবে না। তবে রোজের অভ্যাসে আয়ত্ত হবে। মোটামুটি ১০ সেকেন্ড মতো থেকে আবার প্রথম অবস্থানে ফিরে আসতে হবে।