Advertisement
E-Paper

তৃণমূলের তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা আছে বেআইনি পথে আসা অর্থ! তদন্তের দাবিতে পুলিশকে চিঠি বিদ্রোহী বিধায়কের

অভিযোগকারী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বলেই সূত্রের খবর এবং তিনি একা নন, আরও বেশ কয়েক জন বিদ্রোহী বিধায়ক একই অভিযোগ জানাতে চলেছেন পুলিশের কাছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১৭:৩৩
TMC MLA lodged FIR suspecting illegal money parked in party account

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পরতে পরতে কি লুকিয়ে রহস্য? দলেরই এক বিধায়ক পুলিশের কাছে যে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তার জেরে এই প্রশ্নই সামনে উঠে এসেছে। অভিযোগকারী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বলেই সূত্রের খবর এবং তিনি একা নন, আরও বেশ কয়েক জন বিদ্রোহী বিধায়ক একই অভিযোগ জানাতে চলেছেন পুলিশের কাছে।

তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে অরূপ বিশ্বাস যে বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেছেন, সে খবর বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে আসে। অরূপ দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। ৫ জুন সাংগঠনিক রদবদলে তাঁর বদলে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়। কিন্তু ব্যাঙ্কের নিয়ম মেনে এখনও তাঁকে ‘সিগনেটরি’ বা আর্থিক লেনদেনে সই করার অধিকারী হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয়নি দল। ফলে ব্যাঙ্কের কাছে খাতায়কলমে কোষাধ্যক্ষ এখনও অরূপ। দল যখন কার্যত ভেঙে গিয়েছে এবং দলের সাংগঠনিক শীর্ষকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে, তখন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেন তাঁকে আইনি সমস্যায় ফেলতে পারে আন্দাজ করে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার আর্জি জানিয়েছেন অরূপ।

আর বৃহস্পতিবারই দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক দলীয় বিধায়ক বিধাননগর পুলিশের সাইবার থানায় ওই একই বেসরকারি ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে অভিযোগ করেছেন, পদ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনি ভাবে পাওয়া অর্থ জমা রয়েছে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন হয় জানিয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ না-করলে বেআইনি লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ওই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর পুলিশ।

ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মালিক কে বা কারা, তার কোনও উল্লেখ অভিযোগপত্রে নেই। তবে কয়েক বছর আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে যে তথ্য পেশ করা হয়েছিল তাতে দেখা যাচ্ছে, একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে। অন্য দু’টি অ্যাকাউন্টের একটি দলের ত্রিপুরা শাখা এবং অন্যটি দলের গোয়া শাখার নামে নথিভুক্ত।

২০২২ সালে গোয়া বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের খরচের বহর দেখে অনেকেরই চোখ কপালে উঠেছিল। ৪০ আসনের বিধানসভায় ২৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তারা। তার পর কমিশনকে জানিয়েছিল, নির্বাচনী প্রচার খাতে খরচ হয়েছে ৪৭ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা। একটা আসনও অবশ্য জিততে পারেনি তৃণমূল। অন্য দিকে, ২০টি আসনে জেতা বিজেপি খরচ করেছিল ১৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। তৃণমূলের হয়ে গোয়ায় ভোট পরিচালনা করেছিল ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক। ইডি-র অভিযোগ, গোয়া নির্বাচনের সময় কয়লা পাচারের বিপুল টাকা ঢুকেছিল আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে। সেই মামলায় আইপ্যাকের সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম ডিরেক্টর বিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতারও করেছিল ইডি। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন আর এক সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং ডিরেক্টর প্রতীক জৈন। এই অবস্থায় গোয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও তদন্তের আওতায় নিয়ে আসতে পারে।

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy