রাজ্যের বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে সাড়া দেয়নি কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তবর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি। সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেলেন শোভনদেব। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ওই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসাবে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিযুক্ত করেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। তাঁর ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা করেন শোভনদেব। তাঁর বক্তব্য, স্পিকার নিয়ম মেনে কাজ করেননি। তাই বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগে ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দিক হাই কোর্ট। ইতিমধ্যে শোভনদেবের মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ জানায়, আপাতত ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা থাকবেন। স্পিকারের সিদ্ধান্তে এখনই হস্তক্ষেপ নয়। শোভনদেবের অন্তর্বর্তী নির্দেশের আবেদন খারিজ করা হল। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ হলফনামা এবং পাল্টা যুক্তি দেবেন। আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এই অবস্থায় সিঙ্গল বেঞ্চে সুরাহা না পেয়ে এ বার ডিভিশন বেঞ্চে গেল তৃণমূল।
আরও পড়ুন:
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে শোভনদেবের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সেই প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক ওঠে। বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ ওঠে অভিষেকের বিরুদ্ধে। স্পিকার অভিষেকের প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহার প্রস্তাব মেনে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন স্পিকার। এর পিছনে কারণ হিসাবে জানানো হয়, সন্দীপনদের পক্ষে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। ৫৬ জন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক সশরীরে স্পিকারের কাছে গিয়ে সেই প্রস্তাব দিয়েছেন। স্পিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের প্রস্তাব মেনে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করেন।
শোভনদেবের বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা ঠিক করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের। পরিষদীয় দল বা বিক্ষুব্ধ বিধায়করা বিরোধী দলনেতা ঠিক করতে পারেন না। স্পিকারের যুক্তি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই। পশ্চিমবঙ্গে রীতি মেনে বিরোধী দলের প্রস্তাব মেনে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন হয়ে এসেছে। কিন্তু এখন বিরোধী দলের মধ্যেই দু’টি গোষ্ঠী। এই অবস্থায় রাজনৈতিক দল দেখে নয় বরং, বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বিধানসভার পরে লোকসভাতেও তৃণমূল হাতছাড়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে।
- জোড়াফুলের এই ২০ সাংসদ এর পর যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে।
-
তৃণমূল ভাঙতে জোড়াফুল সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ! সদা গোপনে থেকে মমতার দলকে টুকরো করা কে এই রমেশ?
-
মমতার বাড়িতে বৈঠকের মাঝে বাগ্বিতণ্ডা অভিষেক-কুণালের! তর্কাতর্কি সামাল দিতে দলনেত্রী বললেন, ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল
-
তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে এ বার সুদীপও! শতাব্দীর সঙ্গেই দিল্লি পৌঁছে একই গাড়ি চড়ে গেলেন সেই ভূপেন্দ্রর বাড়িতে
-
ফোন করেননি মমতা, কালীঘাট গেলেন না কল্যাণও! পিসিই থাকবেন, না কি দিদিকে ফিরে পাওয়া যাবে? চর্চা তৃণমূলে
-
কালীঘাটের অফিসে তখন তল্লাশি চালাচ্ছে সিআইডি, দিল্লিতে সনিয়ার কাছে মমতা, ১০ জনপথে একান্ত বৈঠক