দিনের একটা বড় সময় অধিকাংশেরই কাটে ডিজিটাল পর্দায় চোখ রেখে। কারও ল্যাপটপ, কারও টিভি বা মোবাইল। দীর্ঘক্ষণ ডিজিটাল পর্দার আলো চোখের উপর পড়লে, তা যে ক্ষতিকর, সে কথা অজানা নয়। তা থেকেই চোখের নানা অসুখ হানা দিচ্ছে যখন তখন। তার মধ্যে একটি শুষ্ক চোখের সমস্যা বা ‘ড্রাই আইজ়’। চোখের জল শুকোতে শুকোতে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা এবং তা থেকে কর্নিয়ার ক্ষতি, গ্লকোমার মতো অসুখ হানা দিতে পারে যে কোনও সময়েই। সাধারণ চোখের ড্রপে কাজ হয় সাময়িক। কিন্তু শুধু ড্রপ দিয়েই চোখের জটিল থেকে জটিলতর রোগ সারিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। সে কাজটিই করার দাবি করেছেন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের একদল গবেষক। পালং শাকের রস দিয়ে এমন চোখের ওষুধ তৈরি করার দাবি করেছেন তাঁরা, যা দিয়ে চোখের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হতে পারে।
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার অনুকরণে তৈরি হয়েছে ওষুধ
গাছ বেঁচে থাকার জন্য সূর্যালোক এবং সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে। বিজ্ঞানীরা এই একই প্রক্রিয়াকে চোখের চিকিৎসায় ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। তা কী রকম?
আরও পড়ুন:
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের গবেষকেরা পালং শাকের পাতা থেকে সালোকসংশ্লেষকারী কোষগুলিকে আলাদা করেছেন। তার পর সেগুলিকে বদলেছেন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ন্যানো পার্টিক্লে। এগুলি দিয়েই তৈরি করেছেন চোখের ড্রপ। উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতর থাইলাকয়েড নামক একটি অংশ থাকে, যা সালোকসংশ্লেষের সময় ‘এনএডিপিএইচ’ নামক একটি যৌগ তৈরি করে। পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে এবং তা সহজে নিষ্কাশন করা যায়। সেই ক্লোরোপ্লাস্টগুলিকেই ক্ষুদ্র উপাদানে বদলে চোখের ওষুধ তৈরি করেছেন গবেষকেরা। এ বার এই ওষুধটি চোখে দিলে, একই নিয়মে ক্লোরোপ্লাস্ট চোখের ভিতরেই ‘এনএডিপিএইচ’ যৌগটি তৈরি করবে। এর কাজ হবে চোখের আলোক-সংবেদী কোষগুলিকে সক্রিয় করে তোলা। এতে চোখের ভিতরে আলোর প্রতিফলন ঠিকমতো হবে এবং দৃষ্টিশক্তিও উন্নত হবে।
আরও একটি কাজ করবে ওই যৌগ। কর্নিয়ার কোষগুলির প্রদাহ কমাবে। শুষ্ক চোখের সমস্যায় বা গ্লকোমার ক্ষেত্রে কর্নিয়ার উপর চাপ বাড়ে। যে কারণে দৃষ্টি ঝাপসা হতে থাকে। চোখের ওষুধটি এ সমস্যারও সমাধান করতে পারবে বলে দাবি। গবেষকেরা মানুষের চোখেও ড্রপটি দিয়ে দেখেছেন, খুব কম দিনেই চোখের রোগ ৯৫ শতাংশ সেরে গিয়েছে। এমনকি, চোখের সংক্রমণও কমেছে। ওষুধটির প্রভাব যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেই চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। সে কাজে সফল হলে দামি চোখের ওষুধ বা অস্ত্রোপচার না করেই চোখের কঠিন অসুখ সারিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।