ছোট থেকে বড়, পুরুষ কিংবা মহিলা— যে কোনও বয়সেই হতে পারে মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই)। সাধারণত অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার থেকে স্কুলপড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের এমন সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। মহিলাদের এমন ধরনের অসুখ বেশি হলেও, পুরুষেরাও বাদ যান না।
মূত্রনালির সংক্রমণ যদি এক বার শরীরে ঘটে, কিডনি-তো বটেই, অন্যান্য অঙ্গের উপরও তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। কিডনির চিকিৎসকেরা বলছেন, তাই শুরু থেকেই সাবধান হওয়া দরকার।
কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন
প্রস্রাব করতে গেলে জ্বালা বা যন্ত্রণা হলে সতর্ক হওয়া দরকার। এই ব্যাপারে বড়রা সচেতন হতেই পারেন, কিন্তু ছোটরা? প্রস্রাব করতে গেলে আচমকা কষ্ট হলে বা জ্বালা হলে শিশুরা কিন্তু ভয় পেয়ে যেতেই পারে। এমনকি, তারা প্রাথমিক ভাবে বড়দের কাছে বিষয়টি লুকিয়েও রাখতে পারে। তাই এই ব্যাপারে ছোটদেরও সতর্ক করে রাখা ভাল। অপিরচ্ছন্ন শৌচাগার, প্রস্রাবের পর মূত্রত্যাগের স্থানটি পরিচ্ছন্ন না রাখলে এই ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।
বার বার পস্রাবের প্রবণতা: ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলেও সতর্ক হওয়া দরকার। কখনও বেশি জল বা তরল খাবার খেলে প্রস্রাব পায়। কিন্তু তেমন কিছু না হওয়া সত্ত্বেও বার বার প্রস্রাব পেলে বা যদি মনে হয় প্রস্রাব সম্পূর্ণ হচ্ছে না, ফোঁটা ফোঁটা পড়তেই থাকছে, তা হলেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। একেবারে ছোটদের প্রস্রাবের দিকে এই কারণে নজর রাখা দরকার।
আরও পড়ুন:
রং বদল: হঠাৎ করেই প্রস্রাবের রং বদলে যাওয়া, ঘনত্বে বদল, ফেনা হওয়া, গন্ধ ইত্যাদির মতো উপসর্গ দেখলেও সাবধান হতে হবে। মূত্রনালিতে সংক্রমণ হলে প্রস্রাবের গন্ধ-বর্ণ বদল হওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে কখনও কখনও জল খাওয়া কম হলেও এমন হয়। সে ক্ষেত্রে দেখা দরকার, পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরেও এমন কিছু হচ্ছে কি না।
তলপেটে ব্যথা: তলপেটে আচমকা ব্যথা, পেলভিস অর্থাৎ প্রস্রাবের স্থানের ঠিক উপরের অংশে তীব্র যন্ত্রণাও মূত্রনালির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং শিশুদের এমন সংক্রমণ হলে পেটে যন্ত্রণা খুব সাধারণ লক্ষণ।
জ্বর: প্রস্রাবে রং বদল এবং তার সঙ্গে যদি জ্বর থাকে, তা-ও সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। মূত্রনালির সংক্রমণ হলে সব সময়েই প্রস্রাবে জ্বালা বা প্রস্রাবের রং বদল হবে, তেমন নয়। অনেক সময় কোনও কারণ ছাড়াই জ্বর আসাও সেই উপসর্গ হতে পারে।
এই ধরনের লক্ষণ দেখলে একেবারেই তা উড়িয়ে না দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। প্রস্রাব এবং রক্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় সংক্রমণের চরিত্র কী বা আদৌ তা হয়েছে কি না। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ, প্রচুর জল খাওয়া এর পথ্য। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।