কোলেস্টেরল, থাইরয়েড, রক্তচাপ, ডায়াবিটিস বশে রাখতে হলে শরীরচর্চাই সেরা উপায়, বলেন চিকিৎসকেরা। হাঁটাহাটি থেকে যোগাসন, শরীরচর্চাতেই ভাল থাকে স্বাস্থ্য, বশে থাকে ওজন।
তবে শরীরচর্চা করলেই হল না, তার নিয়মকানুন জানা জরুরি। মেদ গলাতে গিয়ে অনেকে শুধু সেই দিকেই লক্ষ্য রাখেন। ভুলে যান শরীরের অন্যান্য সমস্যার কথা। ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা সাবধান করছেন, শরীরচর্চার ভুলভ্রান্তিতেই বিপদ হতে পারে। বিশেষত, রক্তচাপ বেশি হলে সব ধরনের ব্যায়াম করা চলে না। সেই সব না জেনে, বুঝে জিমে গিয়ে বা বাড়িতেই শরীরচর্চা করলে বিপদ হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ এবং ঝুঁকি
রক্তচাপ ১৪০/ ৯০ ছাড়ালেই তাকে উচ্চ বলে ধরা যায়। যে কোনও সুস্থ ব্যক্তির স্বাভাবিক রক্তচাপ হওয়া উচিত ১১০-১২০/ ৭২-৮০। যদি কারও রক্তচাপ ১৪০/ ৯০-এর বেশি হয়, তখন তাঁর রক্তচাপ বেড়েছে বলা যায়। ধমনীর দেওয়ালে রক্ত যে চাপ দেয়, তাকেই বলা হয় রক্তচাপ। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের অন্যতম কারণই হল অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ। কারও ক্রমাগত রক্তচাপ বেশি থাকলে হার্টের পাম্প করার কাজ বেড়ে যায়, হৃদ্যন্ত্রের উপর চাপ পড়ে।
জিনগত, বংশগত কারণ, স্থূলত্ব-সহ নানা কারণে রক্তচাপ বা়ড়তে পারে। শরীরচর্চার অভাবও নেপথ্য কারণ হতে পারে। সাধারণত স্থূলত্ব থেকে কোলেস্টেরল, রক্তচাপের সমস্যা হলে চিকিৎসকেরা ওজন কমাতে বলেন, জীবনযাপনে বদল আনতে বলেন। কিন্তু ওজন কমে যে সব ব্যায়ামে, তার সব ক’টি কিন্তু উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য উপযোগী নয়।
ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা সতর্ক করছেন, কোন ধরনের শরীরচর্চা থেকে বিরত থাকা দরকার—
অতিরিক্ত ওজন তোলা: ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে বা ওজন তুললে, পেশির গড়ন ভাল হয়, দ্রুত ক্যালোরি খরচ হয়। তবে প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের শরীরচর্চায় বিপদ হতে পারে। কারণ, ওজন তুলে কিছু ক্ষণ শ্বাস ধরে রাখতে হয়। এই সময় আচমকাই রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে শ্বাস ধরে রাখা, ভারী ওজন তোলার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। হালকা ওজন নিয়ে এমন ব্যায়াম করা যেতে পারে।
প্ল্যাঙ্ক, ওয়াল সিট: প্ল্যাঙ্ক, ওয়াল সিটস-এর মতো যে ধরনের ব্যায়ামে কয়েক সেকেন্ড শরীর ধরে রাখতে হয়, সেগুলি নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। এই সময়ে হার্টকে দ্রুত গতিতে এবং জোরে পাম্প করতে হয়, ফলে রক্তচাপ বে়ড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
অতিরিক্ত শ্রমের ব্যায়াম: হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং বা অতিরিক্ত শ্রমসাধ্য ব্যায়াম বা যে ধরনের শরীরচর্চায় লম্পঝম্ফ বেশি হয়, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সেগুলি এড়িয়ে চলাই ভাল। করলেও তা দীর্ঘ ক্ষণ করা উচিত নয়। এই ধরনের ব্যায়াম, শরীর এবং মাত্রা বুঝে না করলে, আচমকা হৃদ্রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্প্রিন্টিং: অল্প সময়ের জন্য সর্বোচ্চ গতিতে দৌড়োনোর ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই ধরনের শরীরচর্চায় আচমকা রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই কারও রক্তচাপ বেশি থাকলে তাঁর জন্য বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হাই ইমপ্যাক্ট ডায়নামিক মুভমেন্ট: শরীরের পেশি, অস্থিসন্ধি সচল এবং কর্মক্ষম রাখতে এই ধরনের ব্যায়াম করা হয়। তবে এরও ধরন আছে। কোনওটি হালকা কায়িক শ্রমের, কোনওটি অতিরিক্ত শ্রমসাধ্য। ‘হাই ইমপ্যাক্ট’ ব্যায়াম রক্তচাপের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।