রোজ শরীরের ভিটামিন সি দরকার। কারণ, শরীর থেকে দূষিত পদার্থ টেনে বার করে দেওয়ার জন্য যেমন ভিটামিন সি জরুরি, তেমনই বিভিন্ন রোগের সঙ্গে লড়াই করার শক্তির জন্যও ভিটামিন সি-র প্রয়োজন রয়েছে। আর শুধু সেখানেই বা তালিকা থেমে থাকে কেন! ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া আটকাতে যে কোলাজেনের দরকার, সেই কোলাজেনও ভিটামিন সি ছাড়া তৈরি হতে পারে না।
এ হেন অতি জরুরি ভিটামিন কিন্তু শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না। তাই বাইরে থেকে রোজ তার জোগান দিতে হয়। প্রতি দিন শরীরে ৯০-১২৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ভিটামিন সি দরকার হয়। অনেকেই খাবারের জোগানে ভরসা না রেখে দৈনিক ভিটামিন সি-এর সাপ্লিমেন্ট বা ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ভাবে এই অভ্যাস জারি রাখলে উপকারের থেকে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
কী ক্ষতি হতে পারে দীর্ঘ দিন ধরে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট খেলে?
চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খেলে ক্ষতি নেই। কিন্তু তার বাইরে ইচ্ছেমতো দীর্ঘ দিন ধরে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ফল কী হতে পারে, তা সম্প্রতিএ শাকু শুক্লা নামের এক নেটপ্রভাবী জানিয়েছেন ইনস্টাগ্রামে। বয়সে তরুণী শাকু বলেছেন, ‘‘ত্বক উজ্জ্বল হবে ভেবে আমি গত দে়ড় বছর ধরে নিয়মিত দিনে একটি করে ভিটামিন সি-এর ট্যাবলেট খেতাম। কিছু দিন আগে হঠাৎই প্রস্রাব করার সময় পিঠে এবং কোমরে ব্যথা শুরু হল। পরীক্ষা করানোর পরে জানলাম, আমার কিডনিতে স্টোন তৈরি হতে শুরু করেছে। যার কারণ ওই ভিটামিন সি।’’
আরও পড়ুন:
ভিটামিন সি থেকে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়তে পারে?
যদি খাবারের মাধ্যমে খাওয়া হয়, তবে একেবারেই না। নানা ধরনের ফলমূল থেকে শরীরে যে ভিটামিন সি যায়, তার পরিমাণ অতিরিক্ত বেশি হলেও তা থেকে কিডনি স্টোন তৈরি হয় না। কিন্তু গুজরাতের সুরত নিবাসী মেডিসিনের চিকিৎসক আঁচল পন্থ বলেছেন, ‘‘ভিটামিন সি যখন ট্যাবলেটের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে খাওয়া হয়, তখন অতিরিক্ত ভিটামিন সি শরীর থেকে বার করে দেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। ওই অতিরিক্ত ভিটামিন সি শরীর থেকে না বেরোলে তা কিডনিতে জমতে থাকে এবং অক্সালেশনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যা থেকে তৈরি হতে পারে কিডনি স্টোন।’’
কখন কিডনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়তে পারে?
১। চিকিৎসক আঁচল জানাচ্ছেন, যদি নিয়মিত শরীরে যাওয়া ভিটামিন সি-এর মাত্রা ৫০০-১০০০ মিলিগ্রাম হয়, তা হলে ঝুঁকি বাড়বে।
২। দীর্ঘ দিন ধরে ভিটামিন সি ট্যাবলেট খেলে।
৩। জল খাওয়ার পরিমাণ পর্যাপ্ত না হলে।
৪। পালংশাক, বিট, বাদাম, চকোলেট, চা এবং কফির মতো অক্সালেট বেশি থাকা খাবার খেলে।
৫। খাবারের মাধ্যমে শরীর দরকারি ক্যালশিয়াম না পেলে।
৬। খাবারে প্রাণিজ প্রোটিনের অনুপাত মাত্রাতিরিক্ত হলে।