খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল ৫০ বছর আগে। ছত্রাকের মধ্যে থাকা এক বিশেষ উপাদান ক্যানসার কোষের সঙ্গে লড়াই করতে পারে বলে অনুমান করেছিলেন গবেষকেরা। সেই উপাদানটিকে মানুষের শরীরের উপযোগী করে তুললেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) ও হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকেরা। উপাদানটির নাম ‘ভার্টিসিলিন এ’। মস্তিষ্কের ক্যানসার সারাতে এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে বলে দাবি।
মস্তিষ্কের ক্যানসারের সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ হল ‘গ্লিয়োব্লাস্টোমা’। এই ক্যানসার বাসা বাঁধলে রোগীকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শুধু রোগের তীব্রতা কমিয়ে রোগীর বেঁচে থাকার সময়কালটা আর একটু বাড়ানোর চেষ্টা করা হয় মাত্র। এমআইটি-র গবেষকেরা জানিয়েছেন, ‘ভার্টিসিলিন এ’ উপাদানটি গ্লিয়োব্লাস্টোমার কোষগুলি ধ্বংস করে ফেলতে পারে। ক্যানসার কোষের অনিয়মিত বিভাজন বন্ধ করতেও এটি কার্যকরী হতে পারে। ‘ভার্টিসিলিন এ’ উপাদানটি একটি অ্যালকালয়েড যৌগ। এটি ছত্রাক থেকে পাওয়া যায়। এর অ্যান্টি-ক্যানসার ও অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণ রয়েছে এর। এই যৌগটির একটি বিশেষত্ব হল, এটি ক্যানসার কোষের ভিতরের এমন কিছু প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, যাতে কোষগুলির মৃত্যু হতে পারে। যৌগটি ক্যানসার কোষের ডিএনএ-তেও বদল ঘটায়, যাতে কোষগুলির অনিয়মিত বিভাজন বন্ধ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
‘গ্লিয়োব্লাস্টোমা’ হলে রোগী বেশি দিন বাঁচতে পারেন না। আর এমন ক্যানসারের লক্ষণও ধরা পড়ে না আগে থেকে। ফলে মস্তিষ্কের ভিতরের সুস্থ কোষগুলি নষ্ট হতে থাকে, প্রভাব পড়ে স্নায়ুতে। ফলে রোগীর স্মৃতিনাশের লক্ষণও দেখা দেয়। ঝাপসা দৃষ্টি, ভুলে যাওয়ার সমস্যাকে ডিমেনশিয়ার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। ফলে ক্যানসার যখন ধরা পড়ে, তখন আর রোগীকে বাঁচানোর তেমন উপায় থাকে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গ্লিয়োব্লাস্টোমার কোষগুলি সাধারণ ওষুধ বা কেমোথেরাপিতে বিনষ্ট হয় না। তবে এই যৌগটির প্রয়োগ যদি করা হয়, তা হলে কোষগুলির ভিতরে রাসায়নিক বদল (মিউটেশন) ঘটতে থাকে। ফলে কোষগুলি নষ্ট হতে শুরু করে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির আগে যদি এই যৌগটির প্রয়োগ করা হয়, তা হলে ক্যানসার কোষের বিনাশ প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটবে। আশপাশের সুস্থ কোষগুলিও নষ্ট হবে না।
তবে গবেষণাটি চলছে। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারও খুব জটিল ও ঝঁকিপূর্ণ পদ্ধতি। সে জায়গায় 'ভার্টিসিলিন এ' প্রয়োগ করে যদি ক্যানসার কোষগুলিকে নষ্ট করে ফেলা যায়, তা হলে যন্ত্রণাহীন পদ্ধতিতেই মস্তিষ্কের ক্যানসারের চিকিৎসা সম্ভব হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। মস্তিষ্কের ক্যানসারে ভুগছেন এমন অনেক রোগীকে বেছে নিয়ে তাঁদের উপরেও পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। যদি সকলের ক্ষেত্রেই সাফল্য আসে, তা হলে ক্যানসার জয় করার নতুন দিশা পাওয়া যাবে।