Advertisement
E-Paper

রোদে বসে রোগমুক্তি! সূর্যের আলোয় চিকিৎসা ইউরোপের নানা হাসপাতালে, এ দেশে কি এমন থেরাপি আছে?

চিকিৎসাপদ্ধতিটি প্রাচীন। শুধু মোড়কটি নতুন। রোগীকে সূর্যের আলোয় রেখে রোগমুক্ত করার পদ্ধতিকে বলে ‘হেলিয়োথেরাপি’। ইউরোপে বহু আগে এমন থেরাপি হত। সম্প্রতি তা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ দেশেও কি হয় এমন চিকিৎসা?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১৩:০৫
The Science of Sunshine Therapy, why European Hospitals Are Prescribing Sunlight and Where India Stands

আইসিইউ-র রোগীকেও রোদে বসিয়ে চিকিৎসা হচ্ছে, কতটা কার্যকর এই থেরাপি? ফাইল চিত্র।

হাসপাতালের চওড়া বারান্দায় রোদ এসে পড়েছে। সেখানে হুইলচেয়ারে বসে রোদ পোহাচ্ছেন এক মহিলা। পরনে হাসপাতালেরই পোশাক। বয়স পঞ্চাশ থেকে ষাটের মধ্যে। এমনই এক ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। সেখানে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের এক হাসপাতালে ‘সান থেরাপি’ নিচ্ছেন ওই মহিলা। কিছু দিন আগেও যিনি ভর্তি ছিলেন আইসিইউতে। এমন রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় বসিয়ে রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্নও ওঠে। ইউরোপের নানা হাসপাতালে ‘সান থেরাপি’ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মুমূর্ষু রোগীকেও দীর্ঘ সময় রোদে রেখে তাঁর রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করছেন চিকিৎসকেরা। থেরাপিটি নিয়ে তাই আলোচনাও হচ্ছে বিস্তর।

চিকিৎসা প্রাচীন, মোড়কটি নতুন

সূর্যের আলোয় চিকিৎসা কিন্তু নতুন কোনও পদ্ধতি নয়। চিকিৎসাবিদ্যার এক প্রাচীন কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর এই পদ্ধতি। ১৮ এবং ১৯ শতকে, যখন অ্যান্টিবায়োটিক বা উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির আবিষ্কার হয়নি, তখন এমন ভাবে চিকিৎসা করার চল ছিল। চিকিৎসকেরা দেখেছিলেন, হাসপাতালের বদ্ধ ঘরের চেয়ে খোলা হাওয়া ও রোদে রাখলে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। একে বলা হত ‘হেলিয়োথেরাপি’। চিকিৎসার এই প্রাচীন পদ্ধতিকেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে ইউরোপের নানা হাসপাতালে। বদলানো হচ্ছে হাসপাতালের নকশাও। সান থেরাপির জন্য তৈরি হচ্ছে বড় বড় জানলা, খোলা বারান্দা ও ছাদ। তৈরি হচ্ছে ‘সানলাইট জ়োন’। গুরুতর অসুস্থ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের বিছানা বা হুইলচেয়ার-সহ বারান্দা বা ছাদে নির্দিষ্ট সময় রাখা হচ্ছে। সেখানে খোলা হাওয়া ও রোদে রোগী অনেক তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে দাবি।

সূর্যের আলোয় থেরাপি ভারতেও বহু প্রচীন।

সূর্যের আলোয় থেরাপি ভারতেও বহু প্রচীন। ছবি: ফ্রিপিক।

কেন এই থেরাপি এত কার্যকর?

সূর্যের আলো ত্বকে লাগলে শরীর নিজে থেকেই ভিটামিন ডি তৈরি করে। এই ভিটামিন যেমন হাড়ের গঠন মজবুত করে, তেমনই পেশিগুলিকে সক্রিয় করে তোলে। ভিটামিন ডি শরীরের নানা হরমোনের কার্যকারিতাও নিয়ন্ত্রণ করে। তাই গায়ে রোদ লাগলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

শরীরের জৈবিক ঘড়ি সচল থাকে সূর্যের আলোয়। চিকিৎসকেরা দেখেছেন, এই জৈবিক ঘড়িটিই ঘুম ও জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। হাসপাতালে দীর্ঘদিন বদ্ধ ঘরে থাকলে রোগীরা দিন ও রাতের পার্থক্য ভুলে যান, ফলে তাঁদের ঘুম নষ্ট হয় এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। গায়ে রোদ লাগলে মস্তিষ্ক সঙ্কেত পায় যে, দিন শুরু হয়েছে। ফলে হরমোনের ক্ষরণও যথাযথ ভাবে হতে থাকে।

সূর্যের আলো শরীরে 'সেরোটোনিন' নামক ‘হ্যাপি হরমোন’-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এতে রোগীর অবসাদ, মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমে যায়, যা দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এ দেশেও কি হয় এমন চিকিৎসা?

ভারতেও ‘সান থেরাপি’ বা সূর্যস্নান প্রাচীন পদ্ধতি। সরকারি ও বেসরকারি কিছু হাসপাতালে এর প্রয়োগ হচ্ছে। কর্নাটক, পুণে, গুজরাতের কিছু হাসপাতালে রোগীদের রোজ সকালে সূর্যস্নানের থেরাপি করানো হয়। মানসিক অবসাদে ভুগছেন যে রোগীরা, তাঁদের জন্য ‘হিলিং গার্ডেন’ বা ওপেন-এয়ার জ়োনের ব্যবস্থাও আছে। এ দেশে শিশুদের তেল মালিশ করে রোদে শুইয়ে রাখার রেওয়াজ ঘরে ঘরেই আছে। সেটিও সান থেরাপিরই ঘরোয়া রূপ। তবে এখন গুরুতর ভাবে অসুস্থ রোগীদেরও এই থেরাপি করিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ করে তোলার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।

Vitamin D Sun

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy