বুকে চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে সব সময়ে? না কি মাঝেমধ্যে চাপ চাপ ব্যথার অনুভূতি হচ্ছে? মনে হচ্ছে, কেউ যেন কয়েক মণ ভারী পাথর বসিয়ে দিয়েছে। বুকে ব্যথা হলেই হৃদ্রোগ বলে ভেবে নেন অনেকেই। আতঙ্কিতও হন। কিন্তু বুকে ব্যথার কারণ অনেক হতে পারে। হার্টের অসুখের প্রধান উপসর্গই হল বুকে ব্যথা, যার সঙ্গে বদহজম বা গ্যাসের ব্যথার মিল আছে। আবার ফুসফুসের রোগ হলেও তার পূর্বলক্ষণে বুকে ব্যথা হতে পারে। বুকে চিনচিনে ব্যথা হোক বা চাপ চাপ ব্যথা, কোন ব্যথা কী কারণে হচ্ছে, তা বোঝা খুব জরুরি। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ তো নিতেই হবে, তা ছাড়া কিছু উপসর্গও চিনে রাখতে হবে।
বুকে ব্যথার ধরন
‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ হয় অনেকের। তখন মনে হয় গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে রয়েছে। খাদ্যনালি দিয়ে অ্যাসিড উঠে আসতে থাকে গলার কাছে। প্রচণ্ড জ্বালা হয়। সেই সঙ্গে বুকে-পিঠে ব্যথা করতে থাকে। যদি বুকে ব্যথার পাশাপাশি গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে আছে মনে হয়, তা হলে বুঝতে হবে তা অম্বলের জন্য হচ্ছে।
আর আছে বুকের মাঝখানে বা নীচের দিকে জ্বালাপোড়া অনুভব হওয়া। শোয়ার সময় বা খাওয়ার পর এই ব্যথা বাড়তে পারে। ভারী খাবার খেয়ে শোয়ার পরেই চোঁয়া ঢেকুর উঠতে শুরু করে। এমন ব্যথার কারণ হতে পারে ‘জিইআরডি’, অর্থাৎ ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজ়িজ়’।
আরও পড়ুন:
শ্বাস টানার সময়ে বা কাশতে গিয়ে যদি বুকের একপাশে তীব্র যন্ত্রণা বা চিনচিনে ব্যথার মতো অনুভূতি হয়, তা হলে সেটি ফুসফুসের সমস্যার কারণে হতে পারে।
বুকে সারা ক্ষণই যদি ব্যথা হতে থাকে, সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়, তা হলে বুঝতে হবে নিউমোনিয়া বাসা বাঁধছে। জল জমছে ফুসফুসে।
ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধলেও তীব্র ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথাকে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। এটি হয় পালমোনারি এমবলিজ়ম বা ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে।
অনেক সময়ে যক্ষ্মা বা ফুসফুসে ক্যানসার বাসা বাঁধলেও বুকে ব্যথার অনুভূতি হয়। তবে সে ক্ষেত্রে কফের সঙ্গে রক্ত উঠে আসতে পারে।
হৃদ্রোগের ব্যথার লক্ষণ আলাদা
হৃদ্রোগের কারণে ব্যথা হলে তার উপসর্গ কিছু আলাদা। তখন বুকের মাঝখানে ব্যথা শুরু হবে। মনে হবে বুকে চাপ ধরছে। এই ব্যথা যদি বুক থেকে ঠেলে গলার দিকে উঠতে শুরু করে, সেই সঙ্গে হাতেও ব্যথা শুরু হয় তা হলে সাবধান হতে হবে। ব্যথার সঙ্গেই দরদর করে ঘাম হতে পারে। ব্যথা ধীরে ধীরে পিঠের দিকেও যাবে। চোয়াল ও কাঁধেও ব্যথা শুরু হবে। তখন হাত-পা ঠান্ডা হতে শুরু করবে। হৃৎস্পন্দনের হার বেড়ে যাবে। তখন এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে, কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে রোগীকে।