পড়াশোনা ও পেশাগত কারণে অনেক মহিলাই একটু বেশি বয়সে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা তাঁদের আরও পরে। বয়স যত বাড়ে ততই জরায়ুর ক্ষমতা কমতে থাকে। তার উপর কর্মব্যস্ত জীবনে বেড়ে চলা মানসিক চাপ, জীবনযাত্রায় অনিয়ম, শরীরে বিভিন্ন রোগের হানা— ইত্যাদি নানা বিষয় তো রয়েছেই। তাই চল্লিশ পেরিয়ে মা হওয়ার কথা ভাবলে, শরীরকেও সেই মতো প্রস্তুত রাখতে হবে। সে জন্য ভরসা হতে পারে যোগাসনই। কিছু যোগাসন আছে যা প্রজনন ক্ষমতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মহিলাদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্যও বজায় রাখতে সহায়ক হয়। মূলবন্ধ্যাসন বা রুট লক পোজ় যোগাসনের তেমনই এক পদ্ধতি।
কী ভাবে করবেন?
১) প্রথমে বদ্ধ কোণাসনের ভঙ্গিতে বসতে হবে। দুই হাঁটু ভাঁজ করে দুই পায়ের পাতা যতটা সম্ভব কাছে টেনে আনতে হবে।
২) পিঠ সোজা থাকবে। ঝুঁকে বসলে হবে না। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক ভাবে নিতে হবে।
৩) এ বার দুই পায়ের পাতা জোড়া করে তার উপরে বসার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ, দুই পায়ের গোড়ালির উপর বসতে হবে।
আরও পড়ুন:
৪) দুই হাত পিছনেও রাখতে পারেন, আবার দুই হাঁটুর উপরেও রাখতে পারেন।
৫) এই ভঙ্গিতে ৩০-৪০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
কেন করবেন?
মহিলাদের শ্রোণিদেশ বা পেলভিক অঞ্চলের পেশির স্ট্রেচিং হয় এই ব্যায়ামে।
বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দূর করতে আসনটি বিশেষ উপযোগী।
অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা দূর হতে পারে।
শরীরের নিম্নভাগের ব্যায়াম হবে, পেশির জোর বাড়বে।
পেট ও কোমরের মেদ কমবে, পিঠে ব্যথা থাকলে তা সেরে যাবে।
শরীরের ভারসাম্য বাড়বে, সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে।
কারা করবেন না?
মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।
হাঁটুর ব্যথায় এটি না করাই ভাল।
স্লিপ ডিস্কের সমস্যা থাকলে আসনটি না করাই ভাল।