প্রতি বছর ৬ শতাংশ হারে বাড়ছে ভারতের মহিলাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। অন্তত তেমনই বলছে সমীক্ষার রিপোর্ট। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) তাদের সমীক্ষার রিপোর্ট পেশ করেছে। তাতে জানা গিয়েছে, বিশ্বে প্রতি ২০ জন মহিলার মধ্যে অন্তত ১ জন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব জুড়ে স্তন ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি বছরের হিসেবে ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশও করা হয়েছে। তার মধ্যেই নতুন এক আশঙ্কার কারণ দেখা দিয়েছে। স্তন ক্যানসারের এক বিরল ধরন দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণ স্তন ক্যানসারের যে সব উপসর্গ প্রকট হয়, তার থেকে এটি আলাদা। স্তনে কোনও বদলও সে ভাবে ধরা পড়ে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘ইনভেসিভ লোবিউলার কার্সিনোমা’। যে রোগে দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি লোবিউলে ছোট ছোট টিউমার জন্মায়। এই টিউমার কোষ খুব দ্রুত বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে থাকে।
ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি যেমন বেশি, তেমনি এক বার ক্যানসারে আক্রান্ত হলে তা ফিরে আসার আশঙ্কাও বেশি। পরিবারে ক্যানসারের পূর্ব ইতিহাস থাকলে, তা হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। কাজেই ক্যানসার থেকে বাঁচতে হলে প্রতি দিন নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন অভ্যাস করতে পারেন মহিলারা। এতে শরীরে মেদ জমার প্রবণতা কমবে এবং বাহুমূল ও বুকের লসিকা গ্রন্থিগুলির পেশি সচল থাকবে, রক্ত সঞ্চালন ঠিক ভাবে হবে এবং টিউমার কোষ তৈরি হওয়ার প্রবণতা কমবে।
আরও পড়ুন:
মৎস্যেন্দ্রাসন
মৎস্যেন্দ্রাসন
পা দু’টি টানটান করে ছড়িয়ে দিন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। এ বার বাঁ পা মুড়ে বাঁ হাঁটু ডান ঊরুর উপর রাখুন। শরীর উপরের অংশ বাঁ দিকে ঘুরিয়ে বাঁ হাত ডান হাঁটুর উপর রাখুন। ডান হাত পিঠের দিক দিয়ে ঘুরিয়ে পায়ের পাতা ধরে রাখুন। এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। এই আসন অভ্যাসে বুকের পেশি প্রসারিত হবে, সেই অংশের লসিকা গ্রন্থিগুলিতে রক্ত সঞ্চালন সঠিক ভাবে হবে।
উষ্ট্রাসন
উষ্ট্রাসন
প্রথমে ম্যাটের উপর হাঁটু মুড়ে বসুন। এ বার পিছনের দিকে খানিকটা হেলে হাত দু’টি দিয়ে গোড়ালি ধরুন। মাথা পিছনের দিকে ঝুলিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে পেটের অংশটি সামনের দিকে এগিয়ে দিন। পায়ের পাতা মাটিতে থাকবে। আসনটি করার সময় স্বাভাবিক ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিন। ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। উষ্ট্রাসন করলে থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির সক্রিয়তা বাড়বে এবং শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
সালম্ব সর্বাঙ্গাসন
সালম্ব সর্বাঙ্গাসন
চিত হয়ে শুয়ে পা দু’টি জোড়া করে উপরে তুলুন। দু’হাতের তালু দিয়ে পিঠ এমন ভাবে ঠেলে ধরুন, যেন ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত এক সরলেরখায় থাকে। থুতনিটি বুকের সঙ্গে লেগে থাকবে। দৃষ্টি থাকবে পায়ের আঙুলের দিকে। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে ওই ভঙ্গিতে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এই আসন অভ্যাসে ঋতুস্রাবজনিত সমস্যার সমাধান হয়, থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে থাকে ও বুকের পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিকমতো হয় নিয়মিত।