Advertisement
E-Paper

এন্ডোমেট্রিয়োসিস যন্ত্রণার! এড়াতে হলে মহিলাদের বদলাতে হবে ৩ অভ্যাস, দরকার প্রিয়জনের সাহায্যও

প্রথম এবং প্রধান কাজ হল খাদ্যাভ্যাসে কিছু জরুরি বদল আনা। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিষয় বদলানো দরকার। তবে এই সব বদল আনার জন্য পরিবার বা প্রিয় মানুষটির সহযোগিতাও প্রয়োজন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৭

ছবি : সংগৃহীত।

ঋতুস্রাবের সময় রক্তক্ষরণের মাধ্যমে নারী শরীর থেকে যা বেরিয়ে আসে, তা আদতে জরায়ুর ভিতরের আস্তরণ। যাকে বলে এন্ডোমেট্রিয়াম। এই আস্তরণ যখন জরায়ুর ভিতরে দেওয়ালে না তৈরি হয়ে বাইরের দেওয়ালে বাড়তে শুরু করে তখনই জটিলতার শুরু। ওই সমস্যাকে বলা হয় এন্ডোমেট্রিয়োসিস।

এন্ডোমেট্রিয়োসিস একটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। কারণ এতে জরায়ুর বাইরে পড়া ওই আস্তরণ শরীরের বাইরে বেরোতে পারে না। ফলে তা এক দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যায় পরিণত হয়। এই সমস্যা থেকে পুরোপুরি মুক্তি সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে তার জন্য বদল আনতে হবে জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসে।

ঠিক কী কী করা উচিত এন্ডোমেট্রিয়োসিসের মতো সমস্যা হলে, সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন দিল্লির এক পুষ্টিবিদ তথা যাপন প্রশিক্ষক রমিতা কৌর। রমিতা বলছেন, ‘‘যে মহিলারা এন্ডোমেট্রিয়োসিসের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হল খাদ্যাভ্যাসে অত্যন্ত জরুরি কিছু বদল আনা। তা ছাড়া আরও কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার।’’

খাদ্যাভ্যাস বদল

এন্ডোমেট্রিয়োসিসের সমস্যায় সবার আগে শরীরে প্রদাহ কমানো জরুরি। আর সে ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় দৈনন্দিন খাওয়াদাওয়া। এ ছাড়া এন্ডোমেট্রিয়োসিসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে ইস্ট্রোজেন নামের হরমোনও। তাই সেটিও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে খাওয়াদাওয়া দিয়েই। অর্থাৎ এমন কিছু খাওয়া যাবে না যা প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে। বদলে খেতে হবে এমন খাবার যা প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি ইস্ট্রোজেনও বার করে দিতে সাহায্য করে।

১. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমাতে কার্যকরী। তার জন্য সামুদ্রিক মাছ, তৈলাক্ত মাছ, আখরোট, তিসির বীজ খাওয়া যেতে পারে।

২. ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেলে তা শরীর থেকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলমূল, শাকসব্জি এবং দানা শস্য বেশি করে খান।

৩. অতিরিক্ত চিনি, চা-কফি, অ্যালকোহল এবং প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ, এই সব কিছু শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

৪. পাঁঠার মাংস শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা এন্ডোমেট্রিয়োসিসের মতো রোগের জন্য ক্ষতিকর।

৫. প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করা বা প্লাস্টিকের বোতলে জল খাওয়াও এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, প্লাস্টিকের কিছু রাসায়নিক শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে যাকে এনভায়রনমেন্টাল ইস্ট্রোজেন বলা হয়।

নিয়মিত শরীরচর্চা

ব্যায়াম শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং ব্যথানাশক হরমোন এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে, যা এন্ডোমেট্রিয়োসিসের জন্য হওয়া ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এর জন্য হালকা ব্যায়াম বেশি কার্যকর্। যেমন যোগাসন, হাঁটা বা সাঁতার কাটা ইত্যাদি। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ‘পেলভিস’ এর আশপাশের পেশি শিথিল করার ব্যায়ামও করা যেতে পারে।

মানসিক চাপ কমানো

মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এন্ডোমেট্রিয়োসিসের সমস্যা হলে মানসিক স্বাস্থ্যে প্রাধান্য দিতে হবে সবচেয়ে বেশি। আর তার জন্য শুধু নিজেকে নয় পরিবার পরিজনেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম যাতে হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত ধ্যান বা ব্রিদিং এক্সারসাইজ করলেও মানসিক চাপ কমবে।

Endometriosis Gynecological Problem menstrual cramps
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy