কনকনে ঠান্ডায় এখন শহরবাসীর জবুথবু অবস্থা। শীতে শিশুদের ঠান্ডা লাগা কার্যত প্রত্যেক বাড়ির সমস্যা। আর খুদেদের ঠান্ডা লাগা মানেই, তার সঙ্গে খাওয়াদাওয়ায় অনীহা ও কান্নাকাটি অনিবার্য। শীত থেকে বাঁচাতে মায়েরা একের পর এক গরম পোশাক পরাতে থাকেন শিশুদের। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অতিরিক্ত পোশাক পরে থাকার কারণে শিশুর শরীরে অস্বস্তি শুরু হয়, তারা টুপি-মোজা পরে থাকতে চায় না, ঘ্যানঘ্যান করে। শিশুদের শীতপোশাক পরাতে হবে নিয়ম মেনে। শীতের দিনে শিশুকে ঠান্ডা ও সংক্রমণ থেকে কী ভাবে সুরক্ষিত রাখবেন? চিকিৎসক অর্পণ সাহার মতে, শিশুকে শীতের পোশাক পরানোর বিষয়ে বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে।
শীতে শিশুর ঠান্ডা লাগছে না কি গরম লাগছে, বুঝবেন কী করে?
চিকিৎসক অর্পণের মতে, শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা বড়দের তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকে। শিশুদের বিপাকহার বেশি হয়, তাদের শরীরে ব্রাউন ফ্যাট থাকে, যা শরীর গরম রাখে। তবে অতিরিক্ত শীত পড়লে তার ঠান্ডা লাগছে না কি গরম লাগছে তা বোঝার জন্য গলায়, বুকে আর পেটে হাত দিয়ে দেখতে হবে। যদি দেখেন, শিশুর শরীরের এই অংশগুলি হাতের তুলনায় ঠান্ডা লাগছে তা হলে বুঝতে হবে, শিশুকে আরও গরম পোশাক পরাতে হবে। যদি দেখেন, হাতের তাপমাত্রা শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে তা হলে বুঝবেন, শিশুর পোশাকের লেয়ারিং একেবারে ঠিক আছে। যদি শিশু ঘামতে শুরু করে, ওর মুখ লাল হয়ে যায়, তা হলে তার অতিরিক্ত পোশাকগুলি সঙ্গে সঙ্গে খুলে ফেলতে হবে।
ক’টা শীতের পোশাক পরাবেন আর কী ভাবে?
শীতের পোশাক পরানোর সময় প্রথম পোশাকটি যেন সুতির হয়, সে দিকে লক্ষ রাখুন। প্রথমে উলের পোশাক পরাবেন না, নইলে র্যাশ, চুলকানির সমস্যা শুরু হতে পারে। সুতির কাপড়ের উপরে উলের পোশাক পরান। বাইরে বেরোনোর সময় উইন্ডচিটার জ্যাকেট পরানো যেতে পারে। তবে সবটাই নির্ভর করবে শিশুর শরীরের তাপমাত্রার উপর।
টুপি-মোজা কখন পরাবেন?
খুব শীত না পড়লে বাড়ির ভিতর টুপি মোজা পরানোর দরকার নেই। বাইরে বেরোনোর সময় টুপি-মোজা পরান। চেষ্টা করবেন উলের টুপির না পরানোর, উলের টুপি পরলে খুদের অস্বস্তি হতে পারে। সুতির টুপি বা স্কার্ফ পরানো যেতে পারে।
সংক্রমণ ঠেকাতে চিকিৎসকের পরামর্শ
শীতে নিয়ম করে খুদেকে স্নান করানো জরুরি। স্নানের আগে অবশ্যই তেলমালিশ করাবেন। সপ্তাহে ২-৩ বার সাবান-শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতেই পারে। শিশু পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন থাকলে রোগবালাই থেকে দূরে থাকবে। শিশুকে ফল খাওয়ানো বন্ধ করবেন না। ফল খেলে ঠান্ডা লাগে, এই ধারণা ভুল। ফলের মধ্যে মাল্টি-ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। তাদের রোদে নিয়ে বেরোবেন। বেশি করে জল খাওয়াবেন।