কোমরে ব্যথা, পিঠে ব্যথায় ভোগান্তি এখন ঘরে ঘরে। সারা ক্ষণ বসে কাজ করতে গিয়ে বা ভুল ভঙ্গিতে বসে এই ধরনের সমস্যা জাঁকিয়ে বসছে নতুন প্রজন্মের মধ্যে। কিন্তু মনে রাখবেন, সমস্ত কোমরে বা পিঠে ব্যথাই কিন্তু পেশিতে যন্ত্রণা বা হাড়ের সমস্যা নয়। কিছু ক্ষেত্রে শরীরের বিশেষ অঙ্গের রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। পিঠ বা কোমরের ব্যথার সঙ্গে কী ভাবে পৃথক করবেন তা?
কখনও কখনও সেই ব্যথার উৎস পেশি নয়, কিডনিও হতে পারে। আর এখানেই ভুল করে বসেন অনেকে। কারণ লক্ষণগুলি অন্যান্য সাধারণ সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অধিকাংশ সময়েই কোমরে ব্যথাকে পেশিতে ব্যথা ভেবে উপেক্ষা করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, কয়েকটি সূক্ষ্ম পার্থক্যের দিকে নজর দিলেই বোঝা যাবে, এটি সাধারণ পিঠের ব্যথা না কি কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যা। খানিক একই রকম হলেও, পিঠের ব্যথা আর কিডনির ব্যথা একেবারেই আলাদা উৎস থেকে তৈরি হয়। একটির সঙ্গে জড়িত পেশি ও হাড়, অন্যটির সঙ্গে জড়িত শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা কি না কী ভাবে বুঝবেন? ছবি: সংগৃহীত
পার্থক্য বুঝবেন কোন কোন লক্ষণে?
১. কোথায় ব্যথা হচ্ছে, সেটিই প্রথম সূত্র
সাধারণ পিঠের ব্যথা বেশির ভাগ সময়ে কোমরের নীচের দিকে বা পুরো পিঠ জুড়েই হতে পারে। অন্য দিকে, কিডনির ব্যথা সাধারণত পিঠের উপরের দিকে, পাঁজরের ঠিক নীচে, মেরুদণ্ডের দুই পাশে অনুভূত হয়। এই ব্যথা অনেক সময়ে এক পাশে বেশি হয়, কখনও সখনও সূঁচের মতো ধারালো হতে পারে ব্যথা এবং অনেকটা ভিতর থেকে আসছে বলে মনে হয়।
২. ব্যথার ধরনই বলে দেয় আসল কথা
পেশির ব্যথা সাধারণত নড়াচড়া করলে বাড়ে বা কমে। হাঁটলে, বসলে বা শোয়ার ভঙ্গি বদলালে এর উপর প্রভাব পড়ে। কিন্তু কিডনির ব্যথা আলাদা। এটি এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে, ভঙ্গি বদলালেও খুব একটা কমে না। অনেক সময়ে একটানা চাপ ব্যথা বা হঠাৎ তীব্র ব্যথা হিসাবে অনুভূত হতে পারে। অল্প চাপ দিলে ব্যথা বাড়তে পারে।
৩. শরীরে আর কী হচ্ছে, সেটিও জরুরি
এই বিষয়টি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ পিঠের ব্যথা হলে সাধারণত কেবল যন্ত্রণাটুকুই হতে থাকে। খুব বেশি ব্যথা হলে অল্প বমি ভাব থাকতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা থাকে না। তা ছাড়া হয়তো পেশি শক্ত হয়ে যায় বা টান ধরে। কিন্তু কিডনির সমস্যায় ব্যথার সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়। জ্বর বা কাঁপুনি, বমি বমি ভাব বা বমি, প্রস্রাবে জ্বালা বা রক্তপাত, ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন। এই উপসর্গগুলি থাকলে বিষয়টি আর সাধারণ পিঠের ব্যথা নয়।
চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে বলছেন, কিছু লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসা শুরু করা দরকার। ব্যথার সঙ্গে জ্বর, প্রস্রাবে পরিবর্তন, তীব্র ব্যথা, দীর্ঘ দিন ধরে ব্যথা থেকে যাওয়া— এই সমস্ত ক্ষেত্রে নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।