কাজের মাঝেই কাঁধে ব্যথা। কিংবা ঘুম থেকে উঠে ঘাড়ে যন্ত্রণা। এমন হতেই থাকলে সাবধান হতে হবে। মহিলারা এমন ব্যথায় বেশি ভোগেন। রান্না করা সময় বা বাড়ির যে কোনও কাজ করার সময় ব্যথা আরও বাড়ে। অনেক সময় খেলাধুলো করতে গিয়ে কাঁধে টান লাগে অথবা আঘাত লেগে যায় কোনও কারণে। তা থেকেও প্রচণ্ড ব্যথা হয়। কাঁধে ব্যথার একটি ধরন হল টেন্ডিনাইটিস, যা সাধারণত খেলোয়াড়দের বা যাঁরা ভারী ওজন তোলেন, তাঁদের বেশি হয়। এমন ব্যথা কেবল ব্যথানাশক ওষুধে সারে না। এর জন্য ব্যায়াম করা জরুরি।
প্রথম দিকে খুব একটা পাত্তা না দিলেও পরে এই সমস্যা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, ওষুধ বা ব্যথার মলম দিয়েও খুব একটা কাজ হয় না। শেষ কালে ফিজ়িওথেরাপির সাহায্য নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। বয়স্ক মহিলারাও এমন যন্ত্রণায় কষ্ট পান। সে ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে বরং সহজ কিছু ব্যায়াম করা যেতে পারে। শোল্ডার উইং এমন ধরনের ব্যায়াম, যা কাঁধ ও ঘাড়ের অস্থিসন্ধিকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
কী ভাবে করবেন?
১) পিঠ সোজা রেখে চেয়ারে বসতে হবে। পায়ের পাতা মাটিতে থাকবে।২) চেয়ারে ঝুঁকে বসলে হবে না, মাথা ও ঘাড় এক সরলরেখায় থকবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক ভাবে নিতে হবে।
আরও পড়ুন:
৩) এ বার দুই হাত ধীরে ধীরে কানের পাশ দিয়ে মাথার উপরে তুলুন।
৪) নমস্কারের ভঙ্গিতে দুই হাত জড়ো করতে হবে।
৫) এই অবস্থায় দুই হাত ঘাড়ের পিছনে নিয়ে যান, মাথা ঝোঁকালে হবে না।
৬) শ্বাস নিতে নিতে দুই কনুই ভাঁজ করে যতটা সম্ভব দু’পাশে প্রসারিত করতে হবে।
৭) শ্বাস ছাড়তে ছড়তে আবার দুই কনুই একসঙ্গে কাছাকাছি নিয়ে আসতে হবে।
৮) ১০ সেটে আসনটি করে আগের অবস্থায় ফিরতে হবে।
উপকারিতা:
বয়স বাড়লে হাত ও কাঁধের অস্থিসন্ধির সচলতা কমে যায়। আসনটি করলে উপকার হবে।
দীর্ঘ ক্ষণ কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা হলে আসনটি অভ্যাস করতে পারেন।
স্ট্রোক বা অন্যান্য রোগের কারণে হাত অসাড় হয়ে গেলে আসনটি ধীরে ধীরে অভ্যাস করা যেতে পারে। এতে পেশির অসাড়তা দূর হবে।
হাতের পেশির জোর বাড়বে, হাঁত কাপার সমস্যা থাকলে তা দূর হবে।
কাঁধ ও পিঠের পেশি সুগঠিত হবে। পিঠের মেদও কমবে নিয়মিত আসনটি অভ্যাসে।
কারা করবেন না?
হার্টে অস্ত্রোপচার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে আসনটি করা যাবে না।
হাত বা কনুইতে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি না করাই ভাল।