Advertisement
E-Paper

ক্যানসার হার্টেও হয়! কী তার লক্ষণ আর কারাই বা আক্রান্ত হন তাতে?

হার্টেও ক্যানসার হয়? তা ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। লক্ষণ অনেকটাই হার্ট অ্যাটাকের মতো। কী ভাবে হৃদ্‌যন্ত্রে তৈরি হয় ক্যানসার কোষ?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ০৯:০০
What is heart cancer, the Rare Disease Mimicking Heart Disease Signs

হার্টে ক্যানসার অতি বিরল, কী ভাবে ঘটে এমন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ফুসফুস, কিডনি বা লিভার ক্যানসারের নাম শোনা যায়। শরীরের আরও নানা জায়গায় কর্কট রোগ বাসা বাঁধে। কিন্তু তাই বলে হার্টেও কি ক্যানসার হয়? হৃদ্‌যন্ত্রে ক্যানসার হয়েছে, এমন খুব একটা শোনা যায় না। হতেও দেখা যায় না বেশি। কারণ রোগটি বিরল। বিশ্বে এক শতাংশেরও কম জনের হয়। তবে ইদানীংকালে হার্টের এমন মারণ রোগ নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে। জীবনযাত্রায় অনিয়ম যে ভাবে বাড়ছে ও নেশার মাত্রা চড়ছে, ততই এমন বিরল থেকে বিরলতম অসুখ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

হার্টে ক্যানসার কী ভাবে হয়?

হৃদ্‌যন্ত্রে সর্বসময় সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হয়। এর মধ্যে দিয়ে রক্ত সঞ্চালন হয়। এমন সচল অঙ্গে কী ভাবে ক্যানসার হতে পারে, তা নিয়েই সংশয় রয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা বলেন, অবিরত রক্ত পাম্প করার ক্ষমতার কারণেই হার্টে ক্যানসার হওয়া অত্যন্ত বিরল। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র ০.১ শতাংশেরও কম মানুষ প্রাইমারি হার্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

হার্টে ক্যানসার খুবই বিরল।

হার্টে ক্যানসার খুবই বিরল।

হার্টে ক্যানসার দু’ভাবে হতে পারে— প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। ক্যানসার সরাসরি হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব কোষ বা কলায় বাসা বাঁধে। হার্টের কোষে অনিয়মিত বিভাজন হয় ও টিউমার তৈরি হয়। একে বলে প্রাইমারি হার্ট ক্যানসার বা কার্ডিয়াক অ্যাঞ্জিয়োসারকোমা। এটি অত্যন্ত বিরল। সেকেন্ডারিকে বলা হয় ‘মেটাস্ট্যাটিক কার্ডিয়াক টিউমার’। এ ক্ষেত্রে হার্টে সরাসরি ক্যানসার কোষ তৈরি হয় না, অন্য অঙ্গ থেকে ক্যানসার হার্টে গিয়ে বাসা বাঁধে। যেমন রক্তের ক্যানসার, স্তন ক্যানসার বা ফুসফুসে ক্যানসার হলে তা হার্টেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অ্যাঞ্জিয়োসারকোমা বা প্রাইমারি হার্ট ক্যানসার নিয়েই চিন্তা বেশি। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এ নিয়ে গবেষণা করছেন। অ্যাঞ্জিয়োসারকোমা হলো এক ধরনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার যা হার্টের রক্তনালি বা লিম্ফ নোডের ভিতরে হয়। সাধারণত হার্টের ডান অলিন্দে বেশি হতে দেখা যায়। খুব দ্রুত হার্টের অন্যান্য পেশিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং রক্তের মাধ্যমে ফুসফুস ও মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

লক্ষণ হৃদ্‌রোগের মতোই

কার্ডিয়াক অ্যাঞ্জিয়োসারকোমা হলে তার লক্ষণ প্রাথমিক পর্যায়ে বোঝা যায় না। তাই রোগটি বিরল শুধু নয়, বিপজ্জনকও। হার্টে যখন টিউমারের আকার বাড়তে থাকে, তখন রক্ত চলাচল বাধা পেয়ে ননা উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। সে সব লক্ষণ অনেকটা হার্ট অ্যাটকের মতোই। যেমন, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা, শ্বাসকষ্ট, ঘুমনোর সময়ে দমবন্ধ হয়ে আসা, বুক ধড়ফড় করা, রাতের বেলা ঘাম বেশি হওয়া ইত্যাদি। অ্যাঞ্জিয়োসারকোমার আরও কিছু লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন পা, গোড়ালি বা পেটে জল জমে ফুলতে থাকে, ওজন আচমকা কমে যেতে শুরু করে।

গবেষকদের মতে, অ্যাঞ্জিয়োসারকোমা কেন হয়, তার সঠিক কারণ জানা যায়নি। মনে করা হচ্ছে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত নেশা করার প্রবণতা, জীবনযাপনে অসংযম এর কারণ হতে পারে। আবার জিনগত ত্রুটির কারণেও রোগটি হতে পারে।

ক্যানসার যেহেতু হার্টের মতো সংবেদনশীল অঙ্গে অবস্থান করে, তাই এর চিকিৎসা জটিল। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক্স-রে রশ্মি ব্যবহার করে হার্টের ভিতরের ক্যানসার কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয়। তবে তাতে সুস্থ কোষেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তা ছাড়া রেডিয়োথেরাপি ও কেমোথেরাপিও করা হয়। হার্টে ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা না পড়লে, রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়।

Heart Attack Cancer Risk Cancer treatment cancer awareness
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy