চোখের সামনে হঠাৎ ছোট ছোট দাগ, সুতো বা জালের মতো ছায়া ভেসে ওঠে? কেউ গুরুত্ব দেন, কেউ দেন না। কেউ ভয় পেয়ে যান, কেউ অকুতোভয়। আসলে ভাসমান এই অবয়বগুলি বা ‘ফ্লোটার’ (অর্থাৎ, যা ভাসছে) বেশির ভাগ সময়ে স্বাভাবিক হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি চোখের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। কেউ চোখ বন্ধ করলে সেগুলি দেখেন, কেউ বা খোলা চোখেই, কেউ বা দুই অবস্থাতেই। চোখের মণি ঘোরালে সেগুলিও জায়গা পরিবর্তন করে। নিজে থেকেই আবার উধাও হয়ে যায়। কেন হয় এটি?
চক্ষুরোগ চিকিৎসক নিলয় মজুমদার জানাচ্ছেন, চোখের ভিতরে ভিট্রিয়াস নামে একটি স্বচ্ছ, জেলির মতো পদার্থ থাকে, যা চোখের গঠনকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জেলির স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে। এটি কিছুটা সঙ্কুচিত হয় এবং ছোট ছোট কণায় ভেঙে যায়। সেই কণাগুলিই রেটিনার সামনে ভাসমান দাগ বা ছায়া হিসেবে দেখা দেয়। তাই মাঝেমধ্যে ফ্লোটার দেখা খুবই স্বাভাবিক, বিশেষ করে বয়স বাড়লে। জন্মের সময়ে এই জেল ঘন থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তরলে পরিণত হতে থাকে। কী কী কারণে ‘ফ্লোটার’ দেখা দেয়, জানাচ্ছেন চিকিৎসক।
হঠাৎ ছোট ছোট দাগ, সুতো বা জালের মতো ছায়া ভেসে ওঠে চোখে? ছবি: সংগৃহীত
এই সমস্যা কাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়?
· যাঁদের মায়োপিয়া রয়েছে
· বয়সজনিত কারণে ভিট্রিয়াসের ডিজেনারেশন হলে
· চোখে বাত থাকলে
· চোখে সংক্রমণের সমস্যা দেখা দিলে
· চোখে স্ট্রোক হলে
· ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থেকে রেটিনার সমস্যা হলে
তবে সব ‘ফ্লোটার’ এক রকমের নয়। কখন এটি সাধারণ আর কখন সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন, তা বোঝা জরুরি। যদি ধীরে ধীরে, দীর্ঘ সময় ধরে অল্প অল্প ফ্লোটার দেখা যায়, তা হলে সাধারণত উদ্বেগের কারণ থাকে না। অনেক সময়ে মস্তিষ্ক নিজেই এই দাগগুলিকে উপেক্ষা করতে শিখে নেয়, ফলে দৈনন্দিন জীবনে বিশেষ সমস্যা হয় না। কিন্তু হঠাৎ করে যদি ‘ফ্লোটার’-এর সংখ্যা বেড়ে যায়, তখন অবহেলা করা উচিত নয়। একসঙ্গে অনেকগুলি দাগ বা ছায়া দেখা দিলে তা চোখের ভিতরের কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। ফলে পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
কোন কোন উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন?
· যদি আমচকা ‘ফ্লোটার’ বেড়ে যায়
· চোখের সামনে আলোর ঝলকানি দেখা দিলে
· দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলে
· চোখ জুড়ে ছায়া নেমে এলে
· চোখ লাল বা ব্যথা হলে
এই ধরনের লক্ষণ চোখের গুরুতর রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। রেটিনায় টান পড়া, আলগা হওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়ারও লক্ষণ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না করলে দৃষ্টিশক্তির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।