Advertisement
E-Paper

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগছেন? ডায়েটে কোন ডাল রাখা নিরাপদ, কোনটি একেবারেই খাওয়া যাবে না?

সাধারণত যে সব খাবারে পিউরিনের মাত্রা বেশি থাকে, যেগুলির মধ্যে নাইট্রোজেন যুক্ত যৌগ থাকে, যা ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়— ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে সেগুলি এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। আর সেই কারণে অনেকে সব রকম ডালই ডায়েট থেকে বাদ দিয়ে দেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৮
ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে কোন কোন ডাল খাবেন না?

ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে কোন কোন ডাল খাবেন না? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গাঁটে যন্ত্রণা, গোড়ালিতে কিংবা নানা অস্থিসন্ধি ফুলে গিয়ে ব্যথা— এই সব শারীরিক অসুবিধা অনেকের কাছেই নতুন নয়। কর্মব্যস্ত জীবন এবং খাওয়াদাওয়ায় ব্যাপক অনিয়ম যে সব অসুখ ডেকে আনছে, তার মধ্যে অন্যতম হল রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। খাবার হজমের পর শরীরে এই অ্যাসিড তৈরি হয়। মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন খেলে বা ওজন বেড়ে গেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড শরীরের অস্থিসন্ধি ও মূত্রনালিতে জমা হতে শুরু করে। জমতে থাকা ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টালের আকার নেয়। এটি গাঁটে ব্যথা ও প্রস্রাবের সংক্রমণ ডেকে আনে। এ ছাড়া, শরীরে এই অ্যাসিড বেশি মাত্রায় জমতে শুরু করলে কিডনিতে পাথরও জমতে পারে। লিভারেও সমস্যা দেখা দেয়। ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ভীষণ জরুরি, এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেতে হবে। খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। ইউরিক অ্যাসিড থাকলে ডাল খাওয়া নিয়েও নানা রকম বিধিনিষেধ রয়েছে। অনেক রোগীই বুঝতে পারেন না, কোন ডাল খাওয়া উচিত আর কোনটি খাওয়া উচিত নয়।

সাধারণত যে সব খাবারে পিউরিনের মাত্রা বেশি থাকে, যেগুলির মধ্যে নাইট্রোজেন যুক্ত যৌগ থাকে, যা ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়— ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে সেগুলি এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। আর সেই কারণে অনেকেই সব রকম ডালই ডায়েট থেকে বাদ দিয়ে দেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সব ডাল ডায়েট থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের বুঝেশুনে ডাল বাছাই করে খেতে হবে। আর তার সঙ্গে রক্তের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক কতটা বেশি, সে সম্পর্কেও ধারণা থাকা জরুরি।

মুগ ডাল: এই ডালে পিউরিন থাকে ২৫ থেকে ৩৫ মিলিগ্রাম। অন্যান্য ডালের তুলনায় অনেকটাই কম। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা খুব বেশি না থাকলে প্রতি দিন খাওয়া যেতে পারে এই ডাল।

মুসুর ডাল, অড়হর ডাল আর সবুজ ছিলকাযুক্ত মুগ ডাল: মুগ ডালের তুলনায় এই ডালগুলিতে পিউরিনের মাত্রা সামান্য বেশি। প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা খুব বেশি না থাকলে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন এই ডাল খাওয়া যেতে পারে। তবে রান্নার আগে ছয় থেকে আট ঘণ্টা এই ডাল ভিজিয়ে রাখতে হবে।

লোবিয়া, সবুজ মুগ ডাল: এই সব ডালে পিউরিনের মাত্রা খুব বেশিও নয়, আবার খুব একটা কমও নয়। এগুলিতে প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ মিলিগ্রাম পিউরিন থাকে। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা খুব বেশি না থাকলেও এই সব ডাল সপ্তাহে দু’থেকে তিন দিনের বেশি খাওয়া ঠিক নয়।

কাবলি ছোলা, লাল ছোলা, রাজমা: এই ডালগুলিতে পিউরিনের মাত্রা থাকে বেশির দিকেই। প্রায় ৭৫-৯০ মিলিগ্রাম পিউরিন থাকে এই ডালগুলিতে। ইউরিক অ্যাসিড থাকলে ১০ থেকে ১৫ দিন অন্তর ঘুঘনি, রাজমা খেতে পারেন। তবে ঘন ঘন না খাওয়াই ভাল।

সয়াবিন: এতে পিউরিনের মাত্রা অনেকটাই বেশি, প্রায় ১২০-১৪০ মিলিগ্রাম। ইউরিক অ্যাসিড থাকলে সয়াজাতীয় খাবার ডায়েট থেকে সম্পূর্ণ রূপে বাদ দেওয়াই ভাল।

প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। ইউরিক অ্যাসিড থাকলে ডায়েটে বদল আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

Uric Acid Problem
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy